নয়াদিল্লি : আগামী সোমবার গোধরা মামলার রায় জানাবে গুজরাত হাইকোর্ট৷ এর আগে ২০১১ সালে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে এই মামলায় ৩১ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়৷ দোষীরা পাল্টা আবেদন জানান গুজরাত হাইকোর্টে৷ সোমবার সেই আবেদনেরই রায় দেবে আদালত৷ বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট ১১ জনকে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছিল৷ আর ২০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল ওই আদালত৷ সোমবার তাদের সাজা বহাল থাকে কি না, তা জানা যাবে৷

২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালের পর থেকেই গোটা দেশের নজরে গোধরা-কাণ্ড৷ সেদিন সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ সবরমতী এক্সপ্রেসের এস-৬ কামরায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়৷ মৃত্যু হয় ৫৯ জন করসেবকের৷ সেই ঘটনার পরই উত্তাল হয়ে ওঠে গুজরাট৷ শুরু হয় পাল্টা হামলা৷ বেধে যায় সংঘর্ষ৷ মৃত্যু হয় ১০৪৪ জনের৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তখন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনিও সমালোচনার মুখে পড়েন৷ তাঁর নীরবতাই গোলমালের আগুনে ঘৃতাহুতি দেয় বলেও অভিযোগ ওঠে৷ ঘটনার তদন্তে সুপ্রিম কোর্ট বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে৷ গুজরাত সরকারের তরফে গঠন করা হয় একাধিক কমিশনও৷ সিট ও সুপ্রিম কোর্ট ক্লিনচিট দিয়ে দেয় নরেন্দ্র মোদী৷ এমনকী সম্প্রতি গুজরাত হাইকোর্ট এ নিয়ে জাকিয়া জাফরির করা একটি মামলাও খারিজ হয়ে গিয়েছে৷

অন্যদিকে ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনার মামলার রায়দান ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতেই হয়৷ সেখানে ৩১ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে৷ ১১ জনকে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়৷ গোটা ঘটনার ষড়যন্ত্রে জড়িত ও ট্রেনে উঠে আগুন লাগানোর কাজে সরাসরি যুক্তদেরই ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়৷ ২০ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড৷ ৬৩ জনকে তথ্য-প্রমাণের অভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়৷ এদের মধ্যে মৌলবী সৈয়দ উমরজিও রয়েছেন৷ যাঁকে সিট মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসাবেও চিহ্নিত করেছিল৷ রায় দেওয়ার সময়ই আদালত জানিয়েছিল, ৯০ দিনের মধ্যে সাজাপ্রাপ্তরা উচ্চতর আদালতে আবেদন জানাতে পারবে৷ সেই মতো তারা গুজরাত হাইকোর্টে আবেদনও জানায়৷ প্রায় সাড়ে ছ’বছর পর সেই মামলার রায় বেরোতে চলেছে৷