আহমেদাবাদ: নারোদা পাটিয়া গণহত্যা মামলায় ৩ অভিযুক্তের ১০ বছরের কারাদণ্ড৷ মঙ্গলবার এই নির্দেশ দিল গুজরাত হাই কোর্ট৷ অভিযুক্ত পি জে রাজপুত, রাজকুমার চামুল,উমেশ ভরওয়াদ সহ মোট ১৬ জন এই গণহত্যামামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়৷ এর মধ্যে এই তিনজনের মামলা আইনি জটে আটকে থাকে৷ ২০ এপ্রিল গুজরাত হাই কোর্ট ৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে৷

২০০২ সালে গুজরাত হিংসায় অন্যতম নৃশংস ঘটনা নারোদা পাটিয়া গণহত্যা৷ সেইদিন যাঁরা প্রাণে বাচেন, তাঁরাই নিজেদের মামলা লড়েন৷ তাঁদের দাবি মামলায় অভিযুক্ত মোট ২৬, এঁদের মধ্যে ১৬ জনের শাস্তি হল৷ এর মধ্যে ৩ দোষীর মাত্র ১০ বছরের জেলকেও মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা৷

২০০২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আহমেদাবাদের নারোদা পাটিয়ায় প্রায় ৯৭ মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের উপর প্রায় ৫০০০ বজরং দলের সদস্য হামলা চালায় বলে অভিযোগ৷ চলে লুঠ, গণধর্ষণ৷ টানা ১০ ঘণ্টা ধরে চলা সেই হত্যালীলার নেতৃত্ব দেয় ১৬ অভিযুক্ত৷ সেদিনের ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি সংখ্যাটা আরও বেশি৷ গুজরাত হিংসার সবচেয়ে বড় ও নৃশংস গণহত্যা নারোদা পাটিয়া৷

বহু কবরস্থান, পীর ধ্বংস করা হয়৷ গোধরাকাণ্ডের ঠিক পরের দিন প্রথম হামলা নারোদা পাটিয়াতেই হয়৷ গোধরাকাণ্ড অর্থাৎ গোধরায় সবরমতী এক্সপ্রেসে আগুন ধরালে মৃত্যু হয় একাধিক হিন্দু তীর্থযাত্রীদের৷ সেই ঘটনার ঠিক পরেই, তলোয়ার হাতে হাজার হাজার বজরং সদস্যদের তাণ্ডব চলে বলে অভিযোগ৷ নিরস্ত্র মানুষের উপর চলে নির্যাতন৷

মূলত নারোদা পাটিয়া সবচেয়ে বড় মুসলিম এলাকা৷ দিনে কমপক্ষে ২০০০ টাকা আয় করতেন একানকার ব্যবসায়ীরা৷ ২৭ ফেব্রুয়ারি গোধরাকাণ্ডের পর গোট রাজ্য জুড়ে বনধ ঘোষণা করে বিজেপি সরকার৷ প্রথম হামলা আছড়ে পড়ে নারোদা পাটিয়ার উপর৷ বর্তমানে, পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে,নারোদা পাটিয়া এখনও সেই ভয়ানক দিন থেকে উঠতে পারেনি৷ সেদিনের হত্যালীলা থেকে বেঁচে ফিরেছেন যারা ,তারা এখনও ঠিকমত অর্থ উপার্জনের অবস্থায় নেই৷

দোষী তিন জনই নিজেদের শাস্তি কম করানোর জন্য হাই কোর্টে আপিল করে৷ মামলায় অভিযুক্ত ১৬ জনের মধ্যে ১৩ জনের ২১ বছরের জেল হয়েছে৷ এর মধ্যে রয়েছে বজরং দলের নেতা বাবু বজরঙ্গী৷ মঙ্গলবার বাকি ৩ জন ১০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়৷