নয়াদিল্লি: জিএসটি আদায় ফের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠলো কেন্দ্রের কাছে। এমনিতেই সারা বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস অতি মহামারীর আকার ধারণ করেছে। এ দেশেও যাতে এই ভাইরাস না ছড়ায় তার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‌ গত সপ্তাহেই ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছেন। লক ডাউনের জেরে‌ স্তব্ধ হয়েছে সবরকম কাজকর্ম। ফলে আর্থিক সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কিন্তু লকডাউন শুরু হওয়ার আগেই রীতিমতো আর্থিক খারাপ অবস্থা এদেশে দেখা যাচ্ছে। কারণ আগের মাসের তুলনায় জিএসটি আদায় কম হয়েছে। আর জিএসটি আদায় কম আর্থিক মন্থর গতির প্রতিফলন।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক জানাচ্ছে মার্চ মাসে জিএসটি বাবদ আয় হয়েছে ৯৭,৫৯৭ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি মাসের লেনদেনের ভিত্তিতে মার্চ মাসে এই‌ পরিমাণ পণ্য পরিষেবা কর দিয়েছেন শিল্পপতি ব্যবসায়ীরা। বহুদিন বাদে আবার কোনও মাসের জিএসটি আদায় এক লক্ষ কোটি টাকার‌
তলায় নেমে গেল। এর আগে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি এই চার মাসের প্রতিমাসে জিএসটি থেকে আয় হয়েছিল এক লক্ষ কোটি টাকার বেশি।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো এই মার্চ মাসে যেটা জুটলো সেটা ফেব্রুয়ারি মাসের কাজের ভিত্তিতে। আর ফেব্রুয়ারি মাসে কিন্তু কোন লকডাউন ছিল না। তবু জিএসটি আদায় কমে গিয়েছে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে মার্চেই যদি এই দশা হয় তাহলে আগামী মাস গুলিতে শেষমেষ জিএসটির অংক কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? যেহেতু এই ২১ দিন লক ডাউনের প্রথম সাত দিন পড়ছে মার্চ মাসে এবং পরের ১৪দিন পড়ছে এপ্রিল মাসে।

দেখা গিয়েছে সব রাজ্যেরই মোটের ওপর এই মাসে কর আদায় কমেছে। ব্যতিক্রম নয় পশ্চিমবঙ্গ তাই এখানে প্রায় ৭ শতাংশ কমে হয়েছে ৩৮৪১ কোটি টাকা। অন্যদিকে কেন্দ্র-রাজ্য মিলিত আদায় কমে গিয়েছে ৮.৪ শতাংশ। এই কমার কারণ হিসেব বলছে আমদানি বাবদ ২৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

অবশ্য এমন অবস্থার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের অভিমত, করোনা ঘিরে অনিশ্চয়তা তখনই শুরু হয়ে গিয়েছিল অন্যত্র ফলে নগদে টান পড়েছে করদাতাদের। তার জেরে সম্ভবত সেই সময়ে কর মেটানো হয়নি। তাছাড়া এর কিছুদিন বাদেই লক ডাউন শুরু হয়ে যাওয়ায় অনেকে কর জমা দিতে পারেননি।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV