নয়াদিল্লি: অবশেষে পণ্য পরিষেবা কর পরিষদ সায় ছিল জিএসটি নেটওয়ার্ক (জিএসটিএন)-কে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় পরিণত করতে৷ বেশ কিছুদিন ধরেই আধারের তথ্য চুরি ঘিরে অভিযোগের জেরে অস্বস্তিতে পড়েছে কেন্দ্র। সেখানে জিএসটিএনে রয়েছে করদাতাদের বিপুল তথ্য। ফলে বেশ কিছুদিন ধরেই ভাবনা চিন্তা চলছিল সেই তথ্য যেন ঠিকমতো সুরক্ষিত রাখা থাকে। ফলে সব কিছু খতিয়ে দেখে এই সংস্থাটিকে সরকারি করার সবুজ সঙ্কেত মিলল৷

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি জানিয়েছেন, বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার জিএসটিএন-এর ২৪.৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক এবং রাজ্য সরকারেরও ততটাই মালিকানা রয়েছে ৷ বাকী ৫১ মালিক হল বিভিন্ন বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান- এইচডিএফসি, এইচিডএফসি ব্যাংক, আইসিআইসিআই ব্যাংক, এনএসই স্ট্র্যাটিজিক ইনভেস্টমেন্ট এবং এলআইসি হাউসিং ফিনান্স৷

পড়ুন: ফাঁস হয়ে গেল আপনার প্রফিডেন্ট ফান্ডের ‘সুরক্ষিত’ তথ্য

পর্ষদ রাজি হয়েছে সেই প্রস্তাবে যাতে এই বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি শেয়ার কিনে নিয়ে এবং কেন্দ্র ৫০ শতাংশ ও রাজ্যগুলি মিলে বাকী ৫০ শতাংশ মালিকানা থাকবে৷ তবে রাজ্যগুলির মধ্যে কার হাতে কত, তা ঠিক করা হবে কর আদায়ের অনুপাতে। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিভিন্ন রাজ্য।

এদিকে চিনিতে সেস নিয়ে আলোচনায় চিনিতে সেস বসানোর প্রস্তাবে একমত হতে পারেনি পরিষদ। কেন্দ্রের যুক্তি ছিল, সম্প্রতি আখচাষিদের ভর্তুকি দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার অর্থ জোগাড়েই এই প্রস্তাব। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, ওডিশা, পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ-সহ বিভিন্ন রাজ্য এতে আপত্তি জানিয়েছে। কারণ এই সব রাজ্যের যুক্তি ওই টাকা আসলে চিনিকল মালিকরা পাবেন যা এক দেশ-এক করের ভাবনায় ধাক্কা খাবে। তাছাড়া ডিজিটাল পেমেন্টস-এর মাধ্যমে জিএসটি -র দায় মেটাতে উৎসাহিত করতে ২ শতাংশ ইনসেনটিভ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে পর্ষদের বৈঠকে৷

এদিকে এইসব সিদ্ধান্তের পরে অর্থসচিব হাসমুখ আঢিয়াকে অর্থ মন্ত্রক থেকে সরানোর দাবি জানিয়েছেন বিজেপি সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। অনেক দিনই জিএসটিএন বেসরকারি হাতে থাকা নিয়ে আপত্তি জানাচ্ছিলেন তিনি।