নয়াদিল্লি: জিএসটি চালু করার সময় শর্ত ছিল পর্যাপ্ত আয় না হলে রাজ্যগুলিকে ক্ষতি পূরণ দেবে কেন্দ্র। সেই শর্তের কথা ভেবে এখন দুশ্চিন্তায় অর্থ মন্ত্রকের কর্তারা ৷ কারণ দেশের অর্থনীতির ঝিমুনির জেরে সেই প্রতিশ্রুতি পালনে কঠিন হয়ে উঠেছে মোদী সরকারের।

জিএসটির আওতায় থাকা বিলাসবহুল ও ক্ষতিকারক পণ্যের উপর বাড়তি সেস বসিয়ে কেন্দ্রে রাজ্যগুলিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু অর্থনীতির বেহাল দশায় বাজারে কেনাকাটা কমেছে। যে কারণে একদিকে যেমন জিএসটি বাবদ আয় কমেছে কেন্দ্র ও রাজ্যের তেমনই আবার সেস বাবদ আয়ও ধাক্কা খাচ্ছে। অর্থ মন্ত্রকের হিসেব করে দেখেছে, ২০১৯-২০ আর্থিক বছরের শেষে জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ রাজ্যগুলিকে প্রায় ১.৬০ লক্ষ কোটি টাকা দিতে হবে কেন্দ্রকে। সেখানে সেস বাবদ আয় হতে পারে ৯৭,০০০ কোটি। বছরের শুরুতে এই সেস তহবিলে ছিল ৪৮,০০০ কোটি টাকা। তা হলে সব মিলিয়ে কেন্দ্রের হাতে থাকছে ১.৪৫ লক্ষ কোটি টাকা। ফলে ১৫,০০০ কোটি টাকার ঘাটতি দেখা যাবে।

তা ছাড়া জিএসটি চালুর সময় ধরা হয়েছিল, ২০১৫-১৬ সালের ভিত্তিতে বছর বছর ১৪% হারে রাজ্যগুলির রাজস্ব বাবদ আয় বাড়বে। না-হলে সেই ঘাটতি মেটাবে কেন্দ্র। অর্থ মন্ত্রকের কর্তাদের আশংকা, দেশে চাহিদার যা অবস্থা, তাতে কোনও রাজ্যেরই পক্ষে ওই হারে রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব নয়৷ সেক্ষেত্রে মোটা অংকের ক্ষতিপূরণের দায়ও চাপবে কেন্দ্রের উপর।

গত অগস্ট মাস থেকেই জিএসটির ক্ষতিপূরণ নিয়ে রাজ্যগুলির ক্ষোভ বাড়ছিল। সম্প্রতি জিএসটি পরিষদের বৈঠকের আগে কেন্দ্র অগস্ট-সেপ্টেম্বরের ক্ষতিপূরণ দিলেও, এখনও বকেয়া রয়েছে অক্টোবর-নভেম্বরের ক্ষতিপূরণ বাবদ পাওনা। এদিকে, জিএসটি থেকে আয় কমার কারণ হিসেবে বিভিন্ন রাজ্যের অর্থমন্ত্রীরা কর ফাঁকি ও বিল জাল করে কর ছাড় নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। কারণ এতগুলি সংস্থা মোট আদায়ের মাত্র ১৫% রাজস্ব জমা করছে। জিএসটি চালু হওয়ার পরে ওই ৬৬.৭৯ লক্ষ সংস্থা যোগ হওয়ায় মোট করদাতা সংস্থার সংখ্যার ১.২১ কোটিতে পৌঁছেছে।