ওয়াশিংটন: পিরিয়ডস নারীদের শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহিলাদের মধ্যে বিশেষ কিছু পরিবর্তন দেখা দেয়। এই পরিবর্তন শারীরিক এবং মানসিক দু’রকমেরই হয়ে থাকে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যে পরিবর্তন আসে তা হল ঋতুস্রাব বা মাসিক অনিয়মিত হয়ে যায় এবং আস্তে আস্তে একসময় তা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। আর এই অবস্থাকেই মেনোপজ বা রজঃবন্ধ বলা হয়।

যেহেতু নারীর দেহে অ্যাস্ট্রোজেন ও প্রজেস্ট্রেরন নামের এই দুই হরমোনের প্রভাবেই মাসিক চক্র চলতে থাকে। ৪০ থেকে ৪৫ বছর বয়সের পরে এই অ্যাস্ট্রোজেনের ক্ষরণ ধীরে ধীরে কমতে থাকে। যার ফলে কমতে শুরু করে ঋতুস্রাবের পরিমাণ। কিন্তু অনেকেই মনে করেন ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে বুড়িয়ে যাওয়া বা বুড়ি হয়ে যাওয়া। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন অন্য কথা। তাহলে আসুন মেনোপজ সম্পর্কে একটু বিস্তারিত জেনে নিই আমরা।

সম্প্রতি মধ্যবয়সী মহিলাদের উপর পিরিয়ডস বা মেনোপজ নিয়ে করা একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন যে, গোটা বিশ্বের অধিকাংশ মহিলারাই চল্লিশ বা পঞ্চাশ বছরের পরও তাঁদের ঋতুস্রাব চালিয়ে যেতে চান। এরজন্য তাঁরা গাঁজা ফলের ব্যবহারও করে থাকেন বলে জানা গিয়েছে। যেহেতু ঋতুচক্র বন্ধ হয়ে যাওয়া মানেই মহিলাদের শরীর এবং মনের উপর এর প্রভাব পড়ে। এমনকি যৌন জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে এই মেনোপজ। আর তাইতো অধিকাংশ মহিলারা পিরিয়ডস নিয়মিত রাখতে গাঁজা ব্যবহার করছেন বা এটি ব্যবহার করতে চান। বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই সব চাঞ্চল্যকর তথ্য।

আর এই গবেষণাটি চলতি বছর উত্তর আমেরিকার মেনোপজ সোসাইটির ভার্চুয়াল সভায় উপস্থাপন করেন বিশেষজ্ঞরা। এই গবেষণা পত্রে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার ২৩২ জন মহিলার উপর মেনোপজ নিয়ে একটি সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। এই সমীক্ষা চলাকালীন দেখা গিয়েছে, ওই অঞ্চলের ৫৪ শতাংশ মহিলা অত্যাধিক ঘামেন এবং অযথা নানা বিষয় নিয়ে চিন্তা করেন। অনিদ্রায় ভোগেন ২৭ শতাংশ মহিলা এবং জেনিটোরিনালের লক্ষন রয়েছে মোট ৬৯ শতাংশ মহিলার।

যেখানে দেখা গিয়েছে, মাএ ২৭ শতাংশ নারীরা তাঁদের পিরিয়ডস চল্লিশের পরও চালু রাখার জন্য গাঁজার ব্যবহার করছেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ মহিলারা ভবিষ্যতে মেনোপজের লক্ষণগুলি বুঝতে বা ঠিকভাবে পরিচালনা করতে গাঁজার ব্যবহারের প্রতি কৌতূহল বা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও ১৯ শতাংশ মহিলারা হরমোনের পরীক্ষা বা মেনোপজের জন্য বিভিন্ন থেরাপি নেওয়ার চেষ্টা করছেন। যদিও বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই পিরিয়ডস চালু রাখার জন্য গাঁজা ব্যবহারকারীদের মধ্যে আর্থ সামাজিক অবস্থা বা মানসিক স্বাস্থ্যের উপর কুপ্রভাব ফেলতে পারে এমন কোনও বিষয় নেই।

আর এই গবেষণা এটি প্রমাণ করে যে, মেনোপজের লক্ষণগুলি পরিচালনা করতে গাঁজার ব্যবহার তুলনামূলকভাবে সাধারণ হতে পারে। তবে, আমরা জানি না যে মেনোপজ পরিচালনা করার জন্য গাঁজার ব্যবহার নিরাপদ বা কার্যকর কিনা? বা মহিলারা তাঁদের চিকিৎসকের কাছে এই বিষয়গুলি নিয়ে কখনও আলোচনা করছেন কিনা। যেখানে ফেডারাল নির্দেশিকা গুলির অধীনে গাঁজা একটি অবৈধ পদার্থ হিসাবে বিবেচিত হয়। এই তথ্য স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্তদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এবং এই ক্ষেত্রে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিশিষ্ট অধ্যাপক ক্যার্লিয়ন গিবসন।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।