সুমন আদক, হাওড়া: বিপদ কখনও শেষ হয় না। কখন ফিরে আসবে কেউ জানে না। বিবাহিতদের ক্ষেত্রে এমনই একটি বিপদ ‘স্ত্রী’ নামক কথাটি। আজকাল ফেসবুকেও এই নিয়ে অনেক ট্রোল বের হয়, যেখানে বউ বাপের বাড়ি যাওয়ার কথা বললেই বড়ের মনে জাগে ফুর্তি। কিন্তু মানিক দত্তের গল্পটা একটু অন্যরকম। প্রায় ২৫ বছর পর হারানো স্ত্রীকে খুঁজে পেয়ে দারুন খুশি তিনি।

২৪ বছর ৮ দিন। হ্যাঁ, সংখ্যাটা এটাই। আড়াই দশক আগের সেই দিনটা আর পাঁচটা দিনের মতোই একটা সাধারন দিন ছিল। কিন্তু সেই দিনটাই যে এমন ভাবে বদলে যাবে তা ভাবতে পারেননি মানিকবাবু। বাড়ি থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন স্ত্রী গৌরীদেবী।

মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন স্ত্রী। কিন্তু তাঁর সঙ্গেই সুখের সংসারটা বেঁধেছিলেন তিনি। তাই গৌরীদেবীকে খুঁজে বের করতে চেষ্টার অন্ত ছিল না স্বামী মানিক দত্তের। লালবাজার, ভবানী ভবন থেকে শুরু করে ভিন রাজ্যেও গৌরির খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়িয়েও কোনও লাভ হয়নি। দিনের শেষে বারবার তাঁকে ফিরতে হয়েছিল নিরাশ হয়েই। অনেকবার অনেক উড়ো ভুল তথ্যও এসেছে তাঁর কাছে।

শেষে একপ্রকার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, শুক্রবার রাতে পুলিশের একটি ফোন মানিকবাবুর এতদিনের হতাশাকে বদলে দেয়। যা কখনও আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয় বলে ভেবে বসেছিলেন মানিকবাবু, সেই হারানো স্ত্রী’কেই ২৪ বছর ৮ মাস পর ফিরে পেলেন।

শুক্রবার রাতে হাওড়া থানার পুলিশ রাস্তা থেকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে ৫৮ বছরের গৌরীবালা দত্তকে। পুলিশ জানিয়েছে রাতে হাওড়া থানার ডিউটি অফিসার এএসআই চন্দ্রশেখর ঘোষ আর.টি ভ্যান নিয়ে ডিউটি দেওয়ার সময় ওই মহিলাকে রাস্তা থেকে উদ্ধার করেন। তাঁর পায়ে গুরুতর চোট ছিল। তাঁর ব্যাগ থেকে পাওয়া কাগজ থেকেই তাঁর পরিচয় মেলে। এরপর হাওড়া থানা যোগাযোগ করে ফরিদপুর থানার সঙ্গে। তাঁরাই মানিকবাবুকে হাওড়ায় ডেকে পাঠান।

হাওড়া পুলিশ অসুস্থ গৌরীদেবীকে উদ্ধারের পর জেলা হাসপাতালে ভরতি করেছিল। এদিন দুপুরে মানিকবাবু বর্ধমান থেকে সেখানে এসেই দেখা পান তাঁর হারিয়ে যাওয়া স্ত্রীয়ের। তবে, এত দিন গৌরীদেবী কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলেন বা কীভাবে তিনি হাওড়ায় চলে এলেন সে উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রী’কে অসুস্থ অবস্থায় এখনই এসব তাঁর জিজ্ঞেস করা সম্ভবও হয়নি।

বর্ধমানের ফরিদপুর থানার দূর্গাপুর পলাশডিহার বাসিন্দা মানিকবাবু হাওড়া সিটি পুলিশকে অসংখ্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন, “স্ত্রী’র খোঁজে নবান্ন থেকে রাষ্ট্রপতি ভবন সর্বত্র যোগাযোগ করেছি। কিন্তু খুঁজে পাইনি। রোজ ঈশ্বরকে ডাকতাম। এতদিন বাদ তিনি সাড়া দিয়েছেন।” স্ত্রী মানেই বিপদ, এই প্রচলিত কথাটা অন্তত মানিকবাবুর ক্ষেত্রে খাটেনি। তিনি যে সত্যিই খুঁজে পেয়েছেন তাঁর জীবনের ‘মনের মানুষটি’কে।