শ্রীনগর: শ্রীনগরের করন নগরে জঙ্গিদের ছোঁড়া গ্রেনেডে আহত হলেন ছয় জন সিআরপিএফ জওয়ান। করন নগরে চেকপোস্টে পাহারার দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে ওই জওয়ানদের উপর হামলা হয়। হামলার জবাবে শূন্যে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে সিআরপিএফ। গ্রেনেড হামলার পরেই আতঙ্ক ছড়ায়। তবে গতবারের মত এবারেও হামলাকারীর পরিচয় জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর শ্রীনগরে গ্রেনেড হামলায় আহত হয়েছিলেন সাত জন সাধারণ মানুষ। জম্মু-কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরে গ্রেনেড হামলা হয়। শ্রীনগরের লাল চক থেকে কয়েক মিটার দূরে হরি সিংহ হাই স্ট্রীট মার্কেটে গ্রেনেড ছোঁড়া হয়। এই গ্রেনেড হামলায় আহত হয়েছিলেন সাত জন।

জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা লোপের পর থেকেই ভারত-পাক দ্বন্দ্ব বেড়েছে। সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে জঙ্গি ঢুকিয়ে উপত্যকাকে অশান্ত করতে চাইছে পাকিস্তান। এমনই দাবি করে এসেছে ভারত। কিছু দিন আগেই সংঘর্ষ-বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে সীমান্ত অঞ্চলে গোলাবর্ষণ করে পাকিস্তান। জবাবে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নীলম উপত্যকায় বেশ কিছু জঙ্গি লঞ্চপ্যাডকে লক্ষ্য করে তুমুল গোলাবর্ষণ করে ভারত। এই প্রত্যাঘাতে ৬-৭জন জঙ্গিসহ বেশ কিছু পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করে ভারত। কিন্তু বরাবরের মত এবারেও এই দাবি নস্যাৎ করে দেয় ইসলামাবাদ।

আরও পড়ুন – শেষ বছরেই সর্বোচ্চ জঙ্গি তৎপরতা : সরকারি রিপোর্ট

এর মাঝেই গত বুধবার কাশ্মীরের পুলওয়ামার ত্রালে সেনার সঙ্গে গুলি যুদ্ধে নিহত হয় বেশ কিছু জঙ্গি। তাঁদের মধ্যে ছিল কাশ্মীরের আল-কায়দা শাখার প্রধান হামিদ লেলহারি। এরপর থেকেই কাশ্মীরকে নতুন করে অশান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে জঙ্গিরা। তবে জঙ্গি দমনে আগের থেকেও আরও কড়া ভাবে জঙ্গি দমনে নামতে চলেছে সেনা। কিন্তু শনিবার ভরদুপুরে শ্রীনগরের বুকে গ্রেনেড হামলা স্পষ্ট করে দিল উপত্যকায় সন্ত্রাসের ভীতি ফেরাতে কতটা তৎপর হয়ে উঠেছে জঙ্গিরা।

পুলিশ সূত্রে খবর, হামলার পরেই আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েকজনের অবস্থা সংকটজনক তবে কোনও প্রাণহানি ঘটেনি। তবে এই হামলায় উত্তেজনা ছড়ায় শ্রীনগরে। বন্ধ হয়ে যায় মার্কেট চত্বরের বহু দোকান। পুলিশ সূত্রে খবর হামলাকারীর খোঁজ চলছিল। এবারেও একই ভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনও জঙ্গি সংগঠন।