সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: অরোরা অস্ট্রালিস, অরোরা বরিয়োলিস দেখা গেল বাংলায়। প্রকৃতির কালভৈরব তাণ্ডবে এটাও দেখা গেল। লকডাউনের বাজারে কি কি না দেখা গিয়েছে। যেখান সেখান থেকে এভারেস্ট , কাঞ্চনজঙ্ঘা তো। দেখাই গিয়েছে। আবার প্রকৃতি শুদ্ধ হওয়ায় ফিরেছে বহু লুকিয়ে পড়া পশু-পক্ষী। কিন্তু তা বলে কি প্রকৃতি এমন পরিষ্কার হয়ে গেল যে বাংলা থেকে বরিয়োলিস, অস্ট্রালিসের মেরু প্রদেশের আলোকছটা? না, একেবারেই তা নয়। এই মহাজাগতিক ঘটনা দেখা গিয়েছে রাজ্যে আমফানের ঝড় থামার পর।

সেই ‘এক্সক্লুসিভ’ ছবি ধরা পড়েছিল মেদিনীপুরের বাসিন্দা সৌমেন্দু দে’র ক্যামেরায়। তিনি জানিয়েছেন, ‘পশ্চিম মেদিনীপুরেও চলছিল আমফানের তাণ্ডব। ঠিক সেই সময়ই, আমাদের পরিবারের সদস্যদের চোখে পড়ে, দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশে এক সবুজ আলোর রেখা। প্রথমে নিজেদের চোখকে বিশ্বাস করতে না পারলেও, কয়েক সেকেন্ড পর আবার দেখা মেলে সেই রেখার।’ তা সঙ্গে সঙ্গে ক্যামেরাবন্দি করে ফেলেন সৌমেন্দুবাবু। একে তিনি, ‘প্রোটন অরোরা’ হিসেবেও চিহ্নিত করতে চেয়েছেন।

তাঁর ব্যখ্যা, “অরোরা বা অররাস হল পৃথিবীর আকাশে সম্পূর্ণভাবে একটি প্রাকৃতিক ঘটনা, আকস্মিক আলো প্রদর্শন। উত্তর গোলার্ধে অরোরা বোরিয়ালিস এবং দক্ষিনে আন্টার্কটিকার আকাশে অরোরা অস্ট্রালিস নামে পরিচিত (যথাক্রমে, সুমেরু জ্যোতি ও কুমেরু জ্যোতি)। সৌর বায়ু দ্বারা চৌম্বকীয় অঞ্চলে গোলযোগের ফলে এই ধরনের আলোর সৃষ্টি হয়। সৌর বায়ু এবং চৌম্বকীয় ইলেকট্রন ও প্রোটন কনাগুলি মুলত উর্ধ-বায়ুমণ্ডলে এক্সোস্ফিয়ার ও ম্যাগনেটোস্ফিয়ারে প্রবাহিত হয় বলে জানাচ্ছেন সৌমেন্দুবাবু।

একই সঙ্গে তিনি আরও জানিয়েছেন, বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উপাদানগুলির আয়োনাইজেসান ফলে বিভিন্ন বর্ণের আলো নির্গত হয়। এই আলোর ছটাটি বৃষ্টিপাতের কণাগুলির প্রদত্ত ত্বরনের উপর নির্ভর করে। কিছু কিছু সময় বিশেষত আবহমণ্ডলে বিপর্যয়ের সময় নিম্ন অক্ষাংশে মুলত ২৫-৪০ ডিগ্রি অক্ষাংশ এর মধ্যে প্রোটন অরোরা দেখা যায়। নিম্ন উচ্চতায় বায়ুমন্ডলে অত্যন্ত উত্তেজিত নাইট্রোজেন অণুর সঙ্গে অক্সিজেন পরমাণুর সংঘর্ষের মাধ্যমে একটি সবুজ তরঙ্গ দৈর্ঘ্য দ্বারা শক্তি স্থানান্তরিত হয়। প্রায় ১০০ কিমির নিচে, পারমাণবিক অক্সিজেনের ঘনত্বের দ্রুত হ্রাসই হল এই আকস্মিক দর্শনীয় আলোটির জন্য দায়ী। এই ধরনের আলো প্রথমবার ১৯০৯ সালে, বিজ্ঞানীরা সিঙ্গাপুর থেকে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।” ,

তীব্র প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা ঝড়-ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ মহাকাশে এই ঘটনাই ঘটেছিল বলে মনে করছেন শুভেন্দুবাবু। সুমেরু ও কুমেরু অঞ্চল ছাড়া এই মেরুজ্যোতি অন্যান্য ভৌগোলিক স্থান থেকে দর্শন করা নেহাতই বিরল ঘটনা। আমফান তা দেখিয়েছে।