হাওড়া : ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের তরফে বিধানসভা ভোটের নির্বাচনী নির্ঘন্ট প্রকাশ করা হয়েছে। হাওড়া জেলায় মোট দু’দফায় ভোট পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এবার জেলায় মোট ৫৫৫৬ টি ভোটকেন্দ্র থাকছে। তারমধ্যে ৪৯৪ টি বুথকে স্পর্শকাতর বলে ঘোষণা করল জেলা প্রশাসন।

সূত্রের খবর, পুলিশ, প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলেই প্রাথমিকভাবে স্পর্শকাতর বুথের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তা ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। জানা গেছে, ৪৯৪ টি স্পর্শকাতর বুথের মধ্যে অধিকাংশই গ্রামীণ হাওড়ার। হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় ৩৯৯ টি ও হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের এলাকায় ৯৫ টি স্পর্শকাতর বুথ রয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন কমিশন এবার বঙ্গে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করাতে কার্যত বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যেই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের মতে, হাওড়া গ্রামীণের পাঁচলা, উদয়নারায়ণপুর, বাগনান, আমতার বেশ কিছু এলাকায় ভোটের সময় অশান্তি লেগেই থাকে। তাই গ্রামীণ এলাকায় স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যাটাও অনেকটাই বেশি। ইতিমধ্যেই হাওড়া জেলায় দু’কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছে। জেলার বিভিন্ন সদর, গ্রামে নিয়মিত রুটমার্চ করছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। তবে আর কত কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী হাওড়া জেলায় আসবে তা এখনো জানা যায়নি। তবে স্পর্শকাতর বুথগুলিতে যে বেশি সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, মাইক্রো অবজার্ভাররা থাকবেন তা একপ্রকার নিশ্চিত।

হাওড়া জেলায় মোট ১৫টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে জেলার অধিকাংশ আসনেই জয় পায় তৃণমূল। শাসকদলের একটি বড় ঘাঁটি বলে পরিচিত হাওড়া জেলা। তবে এবার একটু হলেও সমীকরণটা বদলেছে। জেলার দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বিজেপিতে। জেলার একাধিক প্রান্তে সংগঠন পোক্ত হয়েছে বিজেপির। অন্যদিকে, আব্বাসকে সঙ্গে নিয়ে বাম-কংগ্রেসের জোটও শক্তি বাড়াচ্ছে। সব মিলিয়ে এবার সহজেই হাওড়ায় কোনও দলই বাজিমাত করতে পারবে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। সব পক্ষই এবার একে অপরকে টেক্কা দিতে লড়াইয়ের ময়দানে।

১. হাওড়া উত্তর

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হাওড়া উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে শেষ হাসি হেসেছিলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা তৃণমূল প্রার্থী লক্ষ্মীরতন শুক্লা। তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়ে তিনি গত বিধানসভা ভোটে ৬১ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়েছিলেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের সন্তোষ পাঠককে ২৬ হাজার ৯৫৯ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এই কেন্দ্রে গতবার তৃতীয় স্থানে থেকে বিজেপির তারকা প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ৩১ হাজার ৪১৬ ভোট পেয়েছিলেন। তবে এবার লক্ষ্মীরতন শুক্লা মন্ত্রীত্ব ছেড়েছেন। দলেও সব পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। তবে এখনও তিনি দলবদল করেননি।

২. হাওড়া মধ্য

জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বিধানসভা কেন্দ্রটি। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে এই কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী অরূপ রায়। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল ৯১ হাজার ৮০০। রাজ্যের মন্ত্রী অরূপবাবু সম্ভবত এবারও এই একই কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন। অন্যদিকে, গত বিধানসভা ভোটে এই কেন্দ্রে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন বাম সমর্থিত জনতা দল ইউনাইটেডের প্রার্থী অমিতাভ দত্ত। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল ৩৮ হাজার ৮০৬। গত বিধানসবা নির্বাচনে তৃতীয় স্থানে থাকা বিজেপি প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ছিল ৩৫ হাজার ৬৯১।

৩. শিবপুর

২০১৬ সালের নির্বাচনে শিবপুর কেন্দ্র থেকে দাঁড়িয়ে জিতেছিলেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান প্রার্থী জটু লাহিড়ি। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল ৮৮ হাজার ৭৬। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফরওয়ার্ড ব্লকের জগন্নাথ ভট্টাচার্যকে তিনি ২৭ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছিলেন। তবে এবার আশির বেশি বয়সীদের টিকিট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল। সেই নীতি মানলে এবার আর ভোটে দাঁড়াতে পারবেন না জটুবাবু। সম্ভবত তাঁর বদলে এই কেন্দ্রে এবার নতুন কোনও মুখকে আনতে লেছে শাসকদল।

৪. হাওড়া দক্ষিণ

হাওড়া দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী ব্রজমোহন মজুমদার। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএমের অরিন্দম বসুকে ১৬ হাজার ১৯৪ ভোটে হারিয়েছিলেন তিনি। গতবার এই কেন্দ্রে তৃতীয় স্থানে ছিল বিজেপি।

৫. সাঁকরাইল

সাঁকরাইল বিধানসভা কেন্দ্রেও গত বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল তৃণমূল। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএম প্রার্থীকে ১৪ হাজার ৭৫৭ ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী। সাঁকরাইল কেন্দ্রটি জেলায় তৃণমূলের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি বলেই পরিচিত। তবে এবার এই কেন্দ্রেও শক্তি বাড়িয়েছে বিজেপি। একইভাবে এলাকায় প্রচারে জোরদার তৎপরতা নিয়েছে বাম-কংগ্রেসের জোট। সব মিলিয়ে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন এবার এই কেন্দ্রে জোরদার টক্করের হতে যাচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।