প্রতীকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: বেতন হল না কারোরই। টানা তেরো দিন ধরে কর্মবিরতিতে অচলাবস্থা গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। শিক্ষা কর্মী, অফিসারদের বেতন দিতে না পেরে পদ্যত্যাগ করলেন ফিনান্স অফিসার ভাস্কর ভট্টাচার্য। সোমবার সকালে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গিয়ে দেখা যায় মেইন গেটের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ চলছে অস্থায়ী কর্মীদের। অস্থায়ী কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব বিদ্যালয়ের স্থায়ী কর্মীরাও। টানা তেরো দিন ধরে তাঁদের এই কর্মবিরতি চলছে। নতুন করে রেজিস্ট্রার বিপ্লব গিরির পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

বিশ্ব বিদ্যালয়ের এক কর্মী সৌমেন্দু রায় বলেন, বিশ্ব বিদ্যালয়ের কর্মীরা তিনটি দাবি নিয়ে গত তেরো দিন ধরে কর্মবিরতিতে বহাল রয়েছেন। দুটো দাবি নিয়ে বিশ্ব বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নড়াচড়া করলেও মূল দাবি নিয়ে বিশ্ব বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনও হেলদোল নেই। যতক্ষণ না অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ীকরণের ব্যবস্থা করা হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলবে। এই আন্দোলনের ফলে চরম হয়রানির শিকার ছাত্র ছাত্রীরা। তাঁদের বক্তব্য, মাইগ্রেশন তুলতে পারছেন না প্রভেশনাল সার্টিফিকেট পাওয়া যাচ্ছে না। স্কলারশিপের ফরম তুলতে পারছেন না। এইসব ফর্ম তুলতে গেলে অফিসারদের সই লাগে। বিশ্ববিদ্যালয় এই মুহূর্তে কোন অফিসার নেই। কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছেন না।

উল্লেখ্য, গত ২০ নভেম্বর থেকে স্থায়ীকরণের দাবি নিয়ে নিজেদের অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক অস্থায়ী কর্মীরা। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনে সামিল হয়েছেন একশো বাইশ জন অস্থায়ী কর্মী। পরিস্থিতি না সামলাতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছিলেন না গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্বাগত সেন, রেজিস্টার সহ অন্যান্য আধিকারিকেরা। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা আরও তীব্র হয়েছিলো। এরপর এই আন্দোলনের মাধ্যমে গত ২৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্বাগত সেন পদত্যাগ করেন। এখন আন্দোলনকারীরা রেজিস্ট্রারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছেন।

বিক্ষোভকারী সারাবাংলা শিক্ষাবন্ধু সমিতির গৌড়বঙ্গ শাখা সংগঠনের সভাপতি সুভায়ু দাস বলেন, সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থায়ী কর্মী হিসাবে কাজ করে আসছি। কিন্তু আমাদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে কোনও রকম চিন্তাভাবনা করছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি স্থায়ীকরণের দাবি করা হয়েছে। কিন্তু এইসব নিয়ে কোনও ভাবনা চিন্তা নেই কর্তৃপক্ষের । এর আগেও আমাদের দাবি দাওয়ার বিষয় গুলি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু সেই ব্যাপারে কোনও গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। তাই এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট একশো বাইশ জন অস্থায়ী কর্মী বেতন বৃদ্ধির দাবিতে লাগাতার অবস্থান বিক্ষোভ চালাছে। দাবি দাওয়ার বিষয়টি না মানা হলে এই আন্দোলন চলবে বলে জানা গিয়েছে।

বিক্ষোভকারী অস্থায়ী কর্মীদের বক্তব্য, আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনও প্রতিশ্রুতি দেয়নি। বরং উপাচার্য পদত্যাগ করেছেন। এখন আমরা রেজিস্টারের পদত্যাগের দাবি করছি।

এদিকে এই আন্দোলনের জেরে রীতিমতো দূর্ভোগে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা। তাঁদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় দৈনন্দিন কাজকর্ম স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে । এমন কি বন্ধ হয়ে গিয়েছে প্রত্যেকের বেতন। প্রতি মাসের ১ তারিখ হলেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী এবং অস্থায়ী কর্মীদের নির্দিষ্ট একাউন্টে জমা পড়ত বেতনের টাকা কিন্তু এবারে ব্যতিক্রম কারো একাউন্টে বেতনের টাকা ঢোকেনি যার কারণে পদত্যাগ করেছেন ফিনান্স অফিসার ভাস্কর ভট্টাচার্য্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদত্যাগ করার পর ফিনান্স অফিসার নিজের সমস্ত যোগাযোগ নম্বর বন্ধ রেখেছেন যার ফলে তার সঙ্গে কোনো রকম ভাবে যোগাযোগ করা যায়নি।