নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন, সরকার নিশ্চিত করবে ব্যাংক ঋণ ছোট ব্যবসার ‌জন্য, যা পরোক্ষভাবে গরিব মধ্যবিত্ত এবং পরিযায়ীদের সহায়তা করবে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর মতে, স্টিমুলাস প্যাকেজ নিশ্চিত করবে ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে যার সুফল পাবে বেশিরভাগ পরিযায়ীরা।

গত ১২মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছিলেন,২০ লক্ষ কোটি টাকার বা জিডিপির ১০ শতাংশ আর্থিক প্যাকেজ। তারপর পাঁচ দিন ধরে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ওই প্যাকেজ ব্যাখ্যা করতে একের পর এক ঘোষণা করেন। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, কোনরকম বন্ধক ছাড়াই ছোট মাঝারি সংস্থাকে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করছে সরকার।

করোনা ভাইরাস যাতে দেশে ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য লকডাউন জারি করা হয়েছে। এদিকে তার জেরে স্তব্ধ হয়েছে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ। সেই জন্য ছোট মাঝারি শিল্পকে বাঁচাতে তিন লক্ষ কোটি টাকার বন্ধকহীন ঋণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। এদিকে আবার বন্ধক বিহীন এইসব ঋণ কারা পাবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা গিয়েছে বিরোধীদের।

অনেকে আবার আশঙ্কা করেছেন, ফাঁকতালে না নামজাদা বড় বড় শিল্পপতিরা এই‌ ঋণের সুযোগ নেয় আর তারপর সেই টাকা না পরিশোধ করে বিজয় মালিয়া নীরব মোদী মতো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। ফলে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে- এই ঋণ কি তাহলে শুধুমাত্র মোদী সরকারের বন্ধু শিল্পপতিদের দেওয়া হবে এবং তারা আদৌ সেই অর্থ পরিশোধ করবেন তো?

প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ছোট মাঝারি শিল্পের তালিকা থাকা অপেক্ষাকৃত বড় সংস্থাগুলির এর মুনাফা লুটতে পারে। ‌ উল্টে ছোট মাঝারি শিল্পের সিংহভাগের কাছে কিছুই জুটবে না। আবার সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এর থেকে এবারও অসাধু শিল্পপতিরাই ফায়দা লুটবে। এদিকে সরকার একদিক দিয়ে ব্যাংক কর্তাদের অনুৎপাদক‌ সম্পদ কমাতে বলা হচ্ছে অন্যদিকে আবার ঋণ বিলি করতে নেমেছে সরকার। পরস্পর বিরোধী এমন কাজ সন্দেহজনক বলে মনে হয়েছে এই বাম নেতার।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ