নয়াদিল্লি: ভারত সরকার এবার শ্রমবিধি খসড়ায় প্রস্তাব করেছে দিনে নয় ঘন্টা কাজের৷ যদিও সরকারের পক্ষ থেকে ন্যূনতম মজুরি ধার্য করার ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি৷ খসড়ায় বেশির ভাগই আগের নিয়মবিধিই থাকবে ব্যতিক্রম শুধু ভবিষ্যতে ভৌগলিক ভিত্তিতে তিন রকমের মজুরি করার কথা বলা হয়েছে৷

ওই খসড়ায় বলা হয়েছে, সাধারণ কাজের দিনের জন্য ৯ ঘন্টা ধরা হবে এবং এই বিষয়ে জনমত নেওয়া হচ্ছে ৷ জনমত নেওয়ার পর ডিসেম্বর মাসে এই খসড়া চূড়ান্ত হবে ৷ যদিও খসড়া বিধিতে ধন্দ তৈরি হয়েছে কারণ কয়েক দশক ধরে মাসিক বেতনের ক্ষেত্রে ২৬দিন আট ঘন্টা করে কাজের কথা বলা রয়েছে৷

এই পরিপেক্ষিতে সিটু সহ-সভাপতি এ কে পদ্মনাভনের বক্তব্য, ইতিমধ্যেই বেশ কিছু কারখানায় কর্মীদের চাপ দেওয়া হচ্ছে সাধারণ কাজের দিনে ৯ ঘন্টা করে কাজ করানো জন্য৷ এবার এই নয়া নিয়মের মাধ্যমে তা প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে ৷ এই ধরনের শ্রমনীতির তাঁরা প্রতিবাদ করছেন বলে জানান কারণ তারা শ্রমিক কল্যানের কথা বলেন৷

এদিকে নয়া শ্রম বিধির খসড়ায় ন্যূনতম বেতন ধার্য করার বিষয়ে নীরব থেকেছে ৷ বলা হয়েছে বিশেষজ্ঞ কমিটি এই বিষয়ে ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় সরকারকে তাদের পরামর্শ দেবে ৷ কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রকের একটি অন্তর্বতী প্যানেল জানুয়ারি মাসে জানিয়েছে, ভারতে একক ভাবে জাতীয় ন্যূনতম বেতন ২০১৮ সালের জুলাই মাসে দিনে ৩৭৫ টাকা ৷ এছাড়া ন্যূনতম মাসিক বেতন ৯৭৫০ টাকা হলেও সাত সদস্যের প্যানেল সুপারিশ করেছিল শহরাঞ্চলের কর্মীদের এর সঙ্গে অতিরিক্ত ১৪৩০ টাকা বাড়ি ভাড়া ভাতা দেওয়ার৷

আরএসএস অনুমোদিত ভারতীয় মজদূর সঙ্ঘ (বিএমএস) সভাপতি সিকে সাজি নারায়ন জানিয়েছেন, স্বাধীনতার ৭০ বছর পরেও এ দেশে আলোচনা চলছে একেবারে নিম্ন বেতন নিয়ে যা ন্যূনতম বেতনের কম৷ এই মজুরি তিন প্রকার, ন্যূনতম মজুরি, নায্য মজুরি,জীবন ধারণের জন্য মজুরি৷ তাঁর মতে, শ্রমনীতিতে নব ভারতের দর্শনের অভাব রয়েছে ৷ আট নয় ঘন্টা কাজের বদলে দিনে ছয় ঘন্টা কাজের সমর্থক এই শ্রমিক নেতা৷

ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য ভৌগলিক দিক থেকে ভাগ করা হয়েছে-মেট্রো শহর যেখানে ৪০ লক্ষের বেশি লোকের বাস, নন মেট্রো যেখানে ১০-৪০ লক্ষ লোকের বাস এবং গ্রামীণ এলাকা৷ খসড়ায় বলা হচ্ছে, বাড়ি ভাড়া ভাতা ন্যূনতম বেতনের ১০ শতাংশ কিন্তু বলা নেই উচ্চ শ্রেনী শহরে বাস করলে তা বাড়বে কি না৷ যেহেতু গ্রাম ছেড়ে শহরে আসার প্রবণতা রয়েছে সেহেতু বাস্তবে খাদ্য ও বস্ত্রের খরচের ১০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া হয় না ৷

ওই খসড়ায় আরও বলা হয়েছে বর্তমান বিধিতেই রয়েছে জ্বালানী বিদ্যুত ও অন্যান্য খরচ ন্যূনতম মজুরির ২০ শতাংশ ৷ তাছাড়া খসড়া বিধিতে বিচারের মাপকাঠিতে মজুরি হিসাব করতে প্রতিদিন ২৭০০ ক্যালরি খাবার, ৬৬ মিটার বস্ত্র বছরে লাগবে প্রতি পরিবারে৷ এই সবই ১৯৫৭ সালে ন্যূনতম মজুরির ভিত্তিতে রয়েছে৷

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও