ফাইল ছবি

লখনউ: তিন তালাক মুসলিম সমাজের একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়, এর মধ্যে সরকারের নাক গলান অনুচিত। এমনই দাবি করলেন দেওবন্দের মুসলিম মহিলারা।

দেওবন্দে অবস্থিত ভারতের সব থেকে বড় মাদ্রাসা দারুল উলুম। সমগ্র দেশের মুসলিম সমাজকে প্রভাবিত করতে এই মাদ্রাসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকে। অনেক বড় বিষয়ে দেওবন্দের দারুল উলুম মাদ্রাসার নির্দেশকে মান্যতা দিয়েছে ভারতের মুসলিম মহল।

শামিলা আহমেদ

সেই দেওবন্দের বাসিন্দা একাধিক মহিলা তিন তালাক বিলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। তিন তালাক প্রথা সম্পূর্ণ ইসলাম ধর্মের বিষয় এবং সেখানে সরকারের হস্তক্ষেপ একেবারেই কাম্য নয় বলে দাবি করেছেন তাঁরা। তিন তালাক নিয়ে ভাবনা বন্ধ করে মুসলিম সমাজের বা মুসলিম মহিলাদের সার্বিক উন্নতির দিকে সরকারের নজর দেওয়া উচিত বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন- শান্তি প্রতিষ্ঠার আশায় ভোট দেবেন মুজফফরনগর হিংসার দুর্গতরা

দেওবন্দের বাসিন্দা শামিলা আহমেদ জানিয়েছেন কোরান কখনও ভুল হতে পারে না। সেই কারণে তিন তালাক প্রথার মধ্যেও কোনও ভুল নেই। তাঁর কথায়, “বিতর্ক যাই হোক না কেন, পবিত্র কোরানে যখন তিন তালাকের উল্লেখ রয়েছে তাহলে সেখানে কোনও ভুল নেই। স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত বিষয়ে সরকার কেন নাক গলাবে? আমার মনে হয় সরকারের আরও অনেক কিছু করার আছে।”

মুসলিম মহিলাদের শিক্ষা এবং শিক্ষিত মুসলিম মহিলাদের চাকরির ব্যবস্থা করা সরকারের প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত বলে দাবি করেছেন শামিলা আহমেদ। অনেক মুসলিম মহিলা উচ্চশিক্ষিত হয়েও চাকরি পাচ্ছেন না সেই বিষয়ে সরকারের নজর দেওয়া উচিত বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সুর শোনা গিয়েছে অন্য এক মহিলার গলাতেও। তিনি বলেছেন, “সমাজ এবং মুসলিম মহিলাদের সার্বিক উন্নতির জন্য সরকারের অনেক কাজ করা আছে সেদিকে সরকার নজর দিক।” তিন তালাকের বিষয়ে তিনি বলেছেন, “তিন তালাক আমাদের ব্যক্তিগত বিষয়, এখানে সরকারের হস্তক্ষেপ করার দরকার নেই। শরিয়া আইনের বিরুদ্ধে আমরা কিছুতেই যেতে পারব না।”

রাজনৈতিক স্বার্থে ভারতের মুসলিমদের বারবার ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দেওবন্দের মুসলিম বাসিন্দারা। বিভিন্ন সময়ে সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কিন্তু এগুলি কোনও সমাধান নয় বলে দাবি করেছেন দেওবন্দের বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, “কোনও সংরক্ষণ নয়, আমাদের অবস্থার বদল দরকার।”