শ্রীনগর: দীর্ঘ তিনমাস গৃহবন্দি থাকার পর মুক্তি পেতে চলেছে কাশ্মীরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তিন নেতা। জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের তরফে বৃহস্পতিবার তাঁদের মুক্তি দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। গত ৫ অগস্ট জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর থেকে প্রশাসনের নির্দেশে গৃহবন্দি করে রাখা হয় এই নেতাদের।

কাশ্মীরে যে নেতারা মুক্তি পেলেন তাঁরা হলেন, ইয়ার মির, নূর মহম্মদ এবং সোয়াইব লোনে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, গৃহবন্দি ওই নেতাদের কাছ থেকে প্রশাসনের তরফে শর্তসাপেক্ষ মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

মুক্তিপ্রাপ্ত নেতা ইয়ারমির হলেন পিডিপি’র বিধায়ক। তিনি রফিয়াবাদ বিধানসভা থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এদিকে উত্তর কাশ্মীর থেকে কংগ্রেসের টিকিট নিয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন সোয়াইব লোনে কিন্তু ভোটে ব্যর্থ হওয়ায় পরে তিনি দল ছেঁড়ে দেন বলে খবর জানা গিয়েছে। এছাড়াও তিনি পিপিল কনফারেন্সের নেতা সাজ্জাদ লোনের খুব কাছের লোক বলেও তার জনপ্রিয়তা রয়েছে।

অন্যদিকে নূর মহম্মদ হলেন ন্যাশনাল কনফারেন্সের কর্মী। জানা গিয়েছে, নূর পার্টির কাজকর্ম সহ শ্রীনগরের বাটমালু এলাকা দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন। জানা গিয়েছে নূরের মুক্তির আগে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন তাকে দিয়ে একটি মুচলেখায় সই করিয়ে নিয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মুচলেখাতে নূরকে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা সহ মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।

এর আগেও গত সেপ্টেম্বর মাসের ২১ তারিখ জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের তরফে স্বাস্থ্যের কারনে মুক্তি দেওয়া হয় পিপিলস কনফারেন্সের নেতা ইমরান আনসারি এবং সৈয়দ আখুনকে।

গত অগস্ট মাসের ৫ তারিখ কাশ্মীরের ক্ষেত্রে স্পেশাল স্ট্যাটাস তুলে নেয় কেন্দ্রীয় সরকার ফলে কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের তকমা পাই। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর থেকে কাশ্মীরে প্রশাসনের তরফে আটক করে রাখা হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, বিছিন্নতাবাদি নেতা, সমাজকর্মী সহ আইনজীবীদেরও বন্দি করে রাখা হয়। এমনকি প্রশাসনের বন্দিদের তালিকায় ছিলেন কাশ্মীরের প্রাক্তন ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। রয়েছেন, ফারুক আবদুল্লাহ, ওমর আবদুল্লাহ এবং মেহবুবা মুফতি।

এছাড়াও ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর কাশ্মীরে কম প্রায় আড়াইশো জনকে জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন জেলে পাঠানো হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয় পাবলিক সেফটি অ্যাক্ট অনুযায়ী ফারুক আবদুল্লাহকেও গৃহবন্দি করে রাখে সরকার।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার একটি বিবৃতি দিয়ে কাশ্মীরের রাজ্যপাল সত্যপাল নায়েক বুধবার থেকেই রাজধানী শ্রীনগর সহ উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি স্কুল-কলেজ এবং বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করার কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেইমত জম্মু ও কাশ্মীরে গত আড়াই মাস বন্ধ থাকার পর ফের বুধবার থেকে নতুন করে খুলতে শুরু করে সমস্ত স্কুল কলেজগুলি। এদিকে উপত্যকায় পর্যটকদের ভ্রমনের ব্যাপারে বৃহস্পতিবার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় প্রশাসন। ফলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করছে কাশ্মীরের জনজীবন।