ফাইল ছবি

কলকাতা:  বাড়তে চলেছে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন। গত কয়েকদিন ধরে বেতন বৃদ্ধি সহ একাধিক বিষয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। বৃহস্পতিবার নজরুল মঞ্চে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেখানেই পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড পে ২৬০০ থেকে বাড়িয়ে ৩৬০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে অর্থ দফতরের কাছে।

জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে ৩৬০০ টাকা গ্রেড পে করার প্রস্তাব অর্থ দফতর অনুমোদন দিয়েছে। পুরো বিষয়টি খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যপাধ্যায় দেখছেন। ৩৬০০ টাকা গ্রেড পে করা হলে রাজ্য সরকারের উপর আর্থিক বোঝা আরও বাড়বে। জানা যাচ্ছে, প্রায় ১১০০ কোটি টাকা ব্যায় ভার বাড়বে মমতা সরকারের প্রশাসনের উপর। শুধু তাই নয়, প্রাথমিক শিক্ষকরা এর ফলে পে ব্যান্ড-২ থেকে পে ব্যান্ড-৩ তে চলে যাবেন।

প্রাথমিক শিক্ষকরা আগে পে ব্যান্ড ২ তে ছিল। যেখানে বেতনক্রম ছিল ৫৪০০-২৫২০০ টাকা। প্রশিক্ষিতরা ২৬০০ টাকা এবং প্রশিক্ষণবিহীনরা ২৩০০ টাকা গ্রেড পে পেতেন। সরকারের সিদ্ধান্তে কার্যকর হলে পে ব্যান্ড-৩তে চলে যাওয়া যাবে। যাতে বেতনক্রম হবে ৭১০০-৩৭৬০০ টাকা। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় শিক্ষকদের আশ্বাস দিয়েছেন যে, হাতেগোনা যে ক’জন প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষক রয়েছেন, তাঁরা ৩২০০ টাকা গ্রেড পে পাবেন। আর প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা পাবেন ৩৬০০ টাকা। হেড টিচাররা ২৯০০ টাকার পরিবর্তে ৩৯০০ টাকা গ্রেড পে পাবেন। এর ফলে ন্যূনতম প্রায় ৮০০০ টাকা বেতন বাড়বে সাধারণ শিক্ষকদের। শিক্ষামন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, বর্ধিত বেতন কবে কীভাবে চালু হবে, তা ঠিক করতে স্কুলশিক্ষা সচিব, কমিশনার এবং অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে।

গত বুধবার শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকারের পক্ষে প্রাথমিক শিক্ষকদের যতটা পরিমাণ বেতন বাড়ানো সম্ভব, ততটাই বাড়ানো হবে। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে বেতন কতটা পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব হবে সেই বিষয়েই আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। নিয়ম না মেনে ১৪জনের বদলির যে অভিযোগ উঠেছিল সে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়৷ আগে আশ্বাস পেয়েও পরে বেতন বৈষম্য না মেটার আভাস পেয়েই সল্টলেকে অবস্থানে সামিল হন প্রাথমিক শিক্ষকরা।

অন্যান্য দাবি থাকলেও এই দাবিটাই তাদের প্রধান দাবি হিসেবে জানিয়েছেন সংগঠনের কর্মকর্তারা। এর মাঝেই একুশে জুলাই মুখ্যমন্ত্রীর “কেন্দ্রের হারে বেতন চাইলে দিল্লি চলে যান” বক্তব্যে আগুনে ঘি পড়েছিল প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন যজ্ঞে। তাই গতকাল বিধানসভায় শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণা সেই আগুনে কিছুটা জল ঢালতে পেরেছিল বলেই মতামত পোষণ করেছিলেন বুদ্ধিজীবি মহল।