ফাইল ছবি

কলকাতাঃ  রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্যে সুখবর। ১ জুলাই সোমবার সরকারি কর্মীদের জন্যে অর্ধ-দিবস ছুটি ঘোষণা করল নবান্ন। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের জন্ম-মৃত্যুদিন উপলক্ষে অর্ধদিবস ছুটি ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যে অর্থদফতরের তরফে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। যেখানে সোমবার দুপুর ২টোর পর ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সমস্ত সরকারি দফতর, অফিস দুটোর পর বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে। তবে সমস্ত জরুরি পরিষেবা এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে।

প্রত্যেক বছরই ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের জন্ম-মৃত্যুদিন বড় করে পালন করে রাজ্য সরকার। সেই মতো অর্ধদিবস ঘোষণা করা হয়। এই বছরও সেই মতো সরকারি কর্মীদের জন্যে ছুটি ঘোষণা করা হল। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে ডিএ সহ একাধিক ইস্যুতে ক্ষুব্ধ রাজ্যের সরকারি কর্মীরা। যার প্রভাব লোকসভা নির্বাচনে পড়েছে। দেখা গিয়েছে পোস্টাল ব্যালোটে শাসকদল তৃণমূলের ভোট এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে গিয়েছে। যার ফলে স্পষ্ট রাজ্যের সরকারি কর্মীদের ক্ষোভ। এই অবস্থায় যেভাবে ছুটি ঘোষণা করছে সরকার তাতে ক্ষোভ সরকারি কর্মীদের আরও বাড়ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহালমহল।

প্রসঙ্গত, ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী। ১৯৪৮ সাল থেকে আমৃত্যু তিনি ওই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। চিকিৎসক হিসেবেও তাঁর বিশেষ খ্যাতি ছিল। ১৯১১ সালে ইংল্যান্ড থেকে এফ.আর.সি.এস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কলকাতার ক্যাম্বেল মেডিক্যাল স্কুলে (বর্তমানে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ) শিক্ষকতা ও চিকিৎসা ব্যবসা শুরু করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট সদস্য, রয়্যাল সোসাইটি অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন ও আমেরিকান সোসাইটি অফ চেস্ট ফিজিশিয়ানের ফেলো নির্বাচিত হন।

১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের প্রভাবে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার নির্বাচনে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেন। পরে কলকাতা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও কলকাতা পৌরসংস্থার মেয়র নির্বাচিত হন। ১৯৩১ সালে মহাত্মা গান্ধীর ডাকে আইন অমান্য আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন। ১৯৪২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মনোনীত হন। ১৯৪৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস প্রার্থীরূপে আইনসভায় নির্বাচিত হন। ১৯৪৮ সালে গ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তিনি প্রতিষ্ঠা করেন পাঁচটি নতুন শহরের দূর্গাপুর, বিধাননগর, কল্যাণী, অশোকনগর-কল্যাণগড় ও হাবরা। তাঁর চোদ্দো বছরের মুখ্যমন্ত্রিত্বকালে নবগঠিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রভূত উন্নতি সম্ভব হয়েছিল। এই কারণে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের রূপকার নামে অভিহিত করা হয়। ১৯৬১ সালে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্নে ভূষিত হন। মৃত্যুর পর তাঁর সম্মানে কলকাতার উপনগরী সল্টলেকের নামকরণ করা হয় বিধাননগর। তাঁর জন্ম ও মৃত্যুদিন (১ জুলাই) সারা ভারতে “চিকিৎসক দিবস” রূপে পালিত হয়।