নয়াদিল্লি : আশঙ্কার কথা শুনিয়েছিল ইউনিসেফ। জানিয়ে ছিল প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে হাজার হাজার শিশুর ভবিষ্যত অন্ধকারে। আগামী ৬মাসে প্রতিদিন হাজারেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হতে পারে। এই পরিসংখ্যান মাথায় রেখেই চিন্তা ভাবনা শুরু করেছে কেন্দ্র।

স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানাচ্ছে, এবার বাড়ি বাড়ি ফলিক অ্যাসিড, জিঙ্ক ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট সরবরাহ করবে কেন্দ্র। যাতে গর্ভবতী মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ঠিক থাকে। এরই সাথে ডিহাইড্রেশন সলিউশনও সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি, মহিলাদের জন্য সরবরাহ করা হবে কনট্রাসেপটিভ পিলস বা গর্ভরোধক ওষুধ। মূলত কন্টেনমেন্ট জোনে সরবরাহ করা হবে ওই ওষুধ। বাফার জোনগুলিতেও মিলবে কেন্দ্রের দেওয়া ওষুধ।

ইউনিসেফ দাবি করেছিল প্রতিদিনের স্বাস্থ্য পরিষেবা পাচ্ছে না শিশুরা। ল্যান্সেট গ্লোবাল হেলথ জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইউনিসেফ জানায় আগামী ৬ মাসে ১১৮টি দেশ জুড়ে ২.৫ মিলিয়ন শিশুর মৃত্যু হতে পারে। এদের প্রত্যেকের বয়স পাঁচ বছরের নীচে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রসংঘ জানায়, লকডাউনের মধ্যে শিশু জন্মাবে রেকর্ড হারে। এই তালিকায় শীর্ষে থাকবে ভারত।

গত মার্চ থেকে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ভারতে দুই কোটির বেশি শিশু জন্ম নিতে পরে বলে হিসেব দিয়েছিল ইউনিসেফ। এ সময়ে ভারতের পাশাপাশি বিশ্ব জুড়ে ১১ কোটি ৬০ লক্ষ শিশুর জন্ম হবে। আর ১১ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর অবধি ভারতে ২ কোটি ১০ লক্ষ শিশুর জন্মের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কথা মাথায় রেখেই কনটেনমেন্ট জোনগুলিতে গর্ভরোধক ওষুধ সরবারহ করবে কেন্দ্র।

কেন্দ্রের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে পাশে থাকতে বলেছে তারা। প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের কন্টেনমেন্ট জোনে এই ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব বর্তাবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সরকারের ওপর। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের সচিব প্রীতি সুদান জানান, কোনওভাবেই স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা পরিষেবার যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, তার জন্য সচেষ্ট রয়েছে কেন্দ্র।

করোনা রোগি ছাড়াও মহিলা, শিশু ও বয়ঃসন্ধিক্ষণের ছেলে মেয়েদের স্বাস্থ্যপরিষেবায় গুরুত্ব দিতে হবে। এই বার্তা সম্বলিত চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব, মুখ্য সচিবদের কাছে। শুধুমাত্র শিশুমৃত্যু নয়। আগামী ছয় মাসে মৃত্যু হতে পারে ৫৬,৭০০ জন মায়েরও।

স্বাস্থ্য পরিষেবা সঠিকভাবে না পাওয়ার জন্যই এই মৃত্যু হতে পারে বলে জানিয়ে ছিল ইউনিসেফ। সংস্থার এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর হেনরিটা ফোর জানান, এই প্রথম সারা বিশ্ব জুড়ে এত শিশুর মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে। করোনার জেরে রোজকার স্বাস্থ্য পরিষেবা পুরোপুরি বিঘ্নিত। স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে শিশুদের। ইউনিসেফ জানায়, করোনার জেরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। অর্থনৈতিক সংকটের জেরে মানুষের কাছে টাকার অভাব। সব মিলিয়ে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প