স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আবারও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। ইতিমধ্যেই এরাজ্যে এনপিআর স্থগিত রাখা নিয়ে নির্দেশিকা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র দফতর। যদিও এনপিআর স্থগিত রাখা নিয়ে রাজ্য মন্ত্রিসভায় কোনও আলোচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ রাজ্যপালের। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে তাঁর ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন জগদীপ ধনখড়। এরই পাশাপাশি নাগরিকত্ব আইন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা গণভোটের দাবিরও চিঠিতে ফের সমালোচনা করেছেন রাজ্যপাল।

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একাধিক ইস্যুতে সরাসরি রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। বিভিন্ন সময় রাজ্য না জানলেও একের পর এক কর্মসূচি নেন রাজ্যপাল। আর এবার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও এনআরসি নিয়েও রাজ্যের অবস্থান বিশেষত মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।

এরাজ্যে এনপিআর আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর। আর এতেই বেজায় চটেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে ক্ষোভ জানিয়ে ধনখড় লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে এনপিআর স্থগিত রাখার বিষয়ে রাজ্য মন্ত্রিসভায় কোনও আলোচনা করা হয়নি।’ এমনকী এবিষয়ে রাজ্যের তরফে তাঁকেও কিছু জানানো হয়নি বলে চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন ধনখড়।

নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রানি রাসমণি রোডে সভা করেন তৃণমূলনেত্রী। কেন্দ্রীয় আইন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে গণভোটের দাবি তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রের আইন নিয়ে দেশজুড়ে গণভোট চাওয়া হোক বলে দাবি করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। রাষ্ট্রপুঞ্জের তত্ত্বাবধানে সেই গণভোটের দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লেখা চিঠিতে রাজ্যপাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গণভোটের দাবি নিয়েও কড়া সমালোচনা করেছেন।

এর আগে টুইটেও তৃণমূলনেত্রীর গণভোটের দাবির সমালোচনা করেছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। টুইটে তিনি লেখেন, ‘আমি গভীর ভাবে মর্মাহত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরোপুরি সংবিধান বিরোধী মন্তব্য করেছেন। তাঁর এই মন্তব্যের ফলে দেশের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো আঘাত পেয়েছে।’ তৃণমূলনেত্রীকে ট্যাগ করে আরও একটি টুইটে মমতাকে তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্যও অনুরোধ করেন রাজ্যপাল।

এপ্রসঙ্গে রাজ্যপাল টুইটে আরও লেখেন, ‘সবার আগে আমাদের দেশের কথা ভাবা উচিত। আমার অনুরোধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাখবেন বলে আমি নিশ্চিত। একজন দেশবাসী হিসেবে ওঁর মন্তব্যে আমি ব্যথিত হয়েছি।’ তৃণমূলনেত্রীর মনোভাব দেশের সংবিধানের পরিপন্থী বলেও আগে টুইটে অভিযোগ করেন রাজ্যপাল।