কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের বিক্ষোভে আটকে পড়া কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে উদ্ধার করা ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাজ্যপাল জগদীশ ধনকর এবং উপাচার্য সুরঞ্জন দাসের মধ্যে হয়ে গেল বাকযুদ্ধ৷ বাবু সুপ্রিয় আটকে থাকার কথা জানতে পারার পর রাজ্যপাল উপাচার্যকে তাঁকে উদ্ধার করতে পুলিশ ডাকতে নির্দেশ দেন৷ যদিও উপাচার্য সেই নির্দেশ মানতে রাজি হননি। উল্টে তিনি জানিয়ে দেন পদত্যাগ করতেও রাজি ৷

এদিন দুপুর থেকেই যাদবপুরে এবিভিপি-র একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে সেখানে ছাত্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়৷ পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ তখন উপাচার্য সুরঞ্জন দাস নিজে বিক্ষোভ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও কাজের কাজ হয়নি৷ সেই সময় বিক্ষোভকারীদের ধাক্কাধাক্কিতে বাবুল এবং সুরঞ্জন দু’জনেই আঘাত পান৷

তবে খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর উপাচার্যকে নির্দেশ দেন যে কোনও মূল্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে উদ্ধার করার এবং পুলিশ ডাকার পরামর্শও দেন রাজ্যপাল। কিন্তু সে পথে একেবারেই তখন হাঁটতে চাননি উপাচার্য৷ বরং রাজ্যপাল তাঁকে পুলিশ ডাকতে বলায় সুরঞ্জন দাস তাঁকে জানিয়ে দেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুলিশ ডাকতে রাজি নন৷ সেক্ষেত্রে এই বিষয়ে বেশি পীড়াপীড়ি করলে বরং তিনি ইস্তফা দিতেও রাজি ৷

এরপরে অবশ্য বাবুলকে উদ্ধার করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যান রাজ্যপাল কিন্তু সেখানে গিয়ে তাঁর গাড়িতে কেন্দ্রীয়মন্ত্রীকে তুলে নিতে গেলে সেই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখায় ছাত্ররা ৷ প্রায় ঘন্টাখানেক রাজ্যপালের গাড়ি আটকে থাকার পরে অবশেষে রাজ্যপালের কনভয় সেখান থেকে বের হতে পারে ৷ এদিকে ওই সময় তুমুল অশান্তির মধ্যে পড়ে গিয়ে চোট পান উপাচার্য সুরঞ্জন দাস এবং তিনি অসুস্থও হয়ে পড়ায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।