কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। আর এবার মুখ্যমন্ত্রীকে ডেকে পাঠালেন রাজ্যপাল। রাজ্যের শিক্ষা-ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চান রাজ্যপাল। ১৫ দিনের মধ্যে আলোচনা চান রাজ্যপাল। ১৩ জানুয়ারি সব উপাচার্যদেরও ডেকে পাঠিয়েছেন আচার্য জগদীপ ধনখড়। যাদবপুরের ঘটনা নিয়ে যারপরনাই ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। আচার্যকে না জানিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান বাতিল প্রসঙ্গেও চূড়ান্ত ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জগদীপ ধনখড়।

মঙ্গলবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে চূড়ান্ত নাটক। সমাবর্তন অনুষ্ঠান শুরুর কথা ছিল সকাল ১০.৪৫ মিনিটে। রাজ্যপাল তথা আচার্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকা নিয়ে চূড়ান্ত নাটকীয়তার জেরে শেষমেশ দুপুর ১২.০৪ মিনিটে শুরু হয় সমাবর্তন অনুষ্ঠান। আচার্যের চেয়ার রইল ফাঁকা। তারই মধ্যে চলল অনুষ্ঠান। আচার্য যেতেই শুরু হল বন্দেমাতরম গান।

মঙ্গলবার রাজ্যপালের গাড়ি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকতেই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। পড়ুয়াদের প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়েন রাজ্যপাল। দেড় ঘণ্টা ধরে বাইরেই অপেক্ষা করতে হয় তাঁকে। উপাচার্য সুরঞ্জন দাসকে ফোন করলে রাজ্যপালকে তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতি তাঁর পক্ষে কিছুই করে ওঠান সম্ভব হচ্ছে না। এমনকী রেগে গিয়ে উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে বলতেও শোনা যায় রাজ্যপালকে। ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল সংবাদমাধ্যমকে বলেন , ‘সমস্ত ঘটনা রাজনৈতিক ভাবে ইচ্ছা করে ঘটানো হচ্ছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। ছাত্রদের ভবিষ্যৎ একদম গোড়া থেকে নষ্ট করে ফেলতে শেখাচ্ছে এই জঘন্য প্রশাসন। আমি অপমানিত বোধ করছি’। এরপরেও রাজ্যপাল দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন গাড়ি নিয়ে। ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলেন। তারপর বেরিয়ে যান। তিনি বেরিয়ে যেতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন প্রাঙ্গণে বেজে ওঠে বন্দে মাতরম গান। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানান , আগেও আচার্য ছাড়া সমাবর্তন হয়েছে। এই নিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনেই রয়েছে।

মঙ্গলবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ নম্বর গেট দিয়ে ঢুকতে দেখা যায় করতে যায় রাজ্যপালের গাড়ি। একটু এগোনর পরেই রাজ্যপালের গাড়ি আটকে দেয় তৃণমূল সমর্থিত শিক্ষাকর্মী সংগঠন। রাজ্যপালের উদ্দেশ্যে ‘গো ব্যাক স্লোগান’ দেওয়া হয়। কালো পতাকা দেখিয়েও চলে তুমুল বিক্ষোভ। রাজ্যপাল গাড়ির মধ্যে থেকেই এই অবস্থার কথা টুইটারে লিখেছেন। তিনি জানিয়েছেন , ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃতী পড়ুয়াদের সম্মান জানাতে এসেছি। কিন্তু আমাকে ভিতরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। আমি খুবই বীতশ্রদ্ধ।’

একপ্রকার বাধ্য হয়েই মঙ্গলবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে ফিরে যান রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। আর এই ঘটনায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ যাদবপুরের আচার্য। গোটা রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে বলে মনে করেন রাজ্যপাল। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে মুখ্যমন্ত্রীকে ডেকে পাঠিয়েছেন তিনি। ১৫ দিনের মধ্যে এবিষযে আলোচনা চান রাজ্যপাল। একইসঙ্গে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি প্রসঙ্গে কথা বলতে সব উপাচার্যকেও ডেকে পাঠিয়েছেন আচার্য তথা রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।