কলকাতা: আবারও সংঘাত রাজ্য-রাজ্যপালের। এবার বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা প্রসঙ্গে রাজ্যকে দুষলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। বিশ্বভারতীতে হামলা প্রসঙ্গে তাঁকে কিছুই জানায়নি রাজ্য সরকার, রাজ্যের তরফে কোনও তথ্য পেলে তবেই বিশ্বভারতী নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে পারবেন বলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন রাজ্যপাল।

জেএনইউ এর পরে বিশ্বভারতীতে ঢুকেও পড়ুয়াদের উপরে নির্বিচারে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। আক্রমণের অভিযোগ ওঠে এবিভিপির বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যাভবন সিনিয়র বয়েজ হস্টেলে ঢুকে দু’জন বাম ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের উপর চড়াও হয় বহিরাগতরা। ৮ জানুয়ারি সেমিনারে বিশ্বভারতীতে সেমিনারে এসে পড়ুয়াদের বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন বিজেপি সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত। এসএফআই সহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের দাবি, সেই কারণেই হামলা চালানো হয়েছে পড়ুয়াদের উপরে।

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের উপর হামলা প্রসঙ্গে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি রাজ্য সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন। এই প্রসঙ্গে রাজ্যপাল বলেন, ‘রাজ্যে কোনও ঘটনা ঘটলে আমায় তা জানানোর দায়িত্ব রাজ্য সরকারের । আমার কাছে তথ্য এলে লক্ষ্মণরেখা মেনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব।’
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের মারধর করা প্রসঙ্গে রাজ্যপাল আরও বলেন, ‘শুধু বিশ্ববিদ্যালয় কেন, রাজ্যের কোথাও যদি হিংসা ছড়ায় তা লজ্জাজনক।’

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের উপর হামলা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব বিজেপি-বিরোধী দলগুলি। একইসঙ্গে হামলার ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনকেও দুষেছেন রাজ্যপাল।
দিন কয়েক আগে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের উপর চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা । মারধর করা হয় বামপন্থী সংগঠনের পড়ুয়াদের । জখম হন দুজন ছাত্র । তাঁদের বিশ্বভারতী পিয়ারসন মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভরতি করা হয় । পড়ুয়াদের অভিযোগ, সেখানেও হামলা চলে । পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীরা হাসপাতালের গেটে তালা লাগিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন ।

যদিও হামলার ঘটনায় তাদের কোনও যোগ নেই বলে দাবি এবিভিপির। এই ঘটনায় অচিন্ত্য বাগদি এবং সাবির আলি নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিশ্বভারতীতে হামলা নিয়ে উদ্বিগ্ন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। যদিও এব্যাপারে তাঁর কাছএ কোনও স্পষ্ট তথ্য নেই বলেও জানিয়েছেন রাজ্যপাল। হিংসাই একন পশ্চিমবঙ্গের পরিচিতি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি রাজ্যপালের। সেই পরিস্থিতি ঘোঁচাতে বদ্ধ পরিকর রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হিংসাই এখন পশ্চিমবঙ্গের পরিচিতি, এই বদনাম ঘোঁচাবার চেষ্টা করব৷ পশ্চিমবঙ্গের নাম হিংসার সঙ্গে যুক্ত হোক তা ভাল নয় । সবার মতকে গুরুত্ব দিতে হবে৷ মতের বিরুদ্ধে বললেই আমি আপনার বিরোধী হয়ে গেছি এমন নয়। সব মতকে সম্মান করা উচিত।’

এর আগেও একাধিক ইস্যুতে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করতে দেখা গিয়েছে রাজ্যপালকে। এবার হিংসার প্রসঙ্গ টেনে রাজ্য প্রশাসনকে কাঠগড়ায় তুললেন জগদীপ ধনখড়।