সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: বিল নিয়ে সমস্যার সমাধান যেকোনও কোথাও হতে পারে। হতে পারে হাতে এক কাপ কফি নিয়ে বসে আলোচনার মাধ্যমেই। এমনটাই জানালেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। সকালে তিনি এসেছিলেন বিধানসভায় বিআর আম্বেদকরের জন্মদিন উপলক্ষে মাল্যদান করতে প্রথমে সেখানে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভায় বিল নিয়ে করা মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেন। এরপর তিনি বিকেলবেলা এসেছিলেন নিউটাউনের আর্টহাট উৎসবে। সেখানে এসেও তিনি তাঁর মত পোষণ করেন।

রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর বলেন, ‘সংবিধানের সবথেকে বড় কাজ হল আলোচনার মাধ্যমে যে কোনও সমস্যার সমাধান করা। আমিও সেটাই করতে চাই। আমি শুনেছি উনি জনসভায় গিয়ে বিল প্রকাশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কিন্তু আমি এই বিষয়গুলো জনসমক্ষে আলোচনা করব না। আমি ওনার সঙ্গে সামনাসামনি বসে আলোচনার মাধ্যমে বসে সমস্যার সমাধান করতে চাই’।

এরপরেই তিনি বলেন , ‘আমি এই বিষয়ে কথা বলার জন্য ওনাকে ফোন করেছিলাম। কিন্তু কোনও ইতিবাচক উত্তর আমি পাইনি। তাই আমি আবারও বলছি। এই সমস্যা নিয়ে একটা কফি নিয়ে বসে আমরা আলোচনা করতে পারি। সেটা বিধানসভা হতে পারে,নবান্ন হতে পারে। ওনার বাড়ি হলেও আমার কোনও সমস্যা নেই। আর যদি সময়ের কথা বলেন তাহলে বলব উনি যে সময় দেবেন সেই সময়েই আমি আলোচনায় বসতে রাজি।’

একই সঙ্গে দু’রকম বয়ান কী ভাবে গণপ্রহার প্রতিরোধ বিলে থাকল, তা নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। বৃহস্পতিবার বিধানসভা ঘুরে দেখতে গিয়ে ফটকের বাইরে দাঁড়িয়ে বৃহস্পতিবার রাজ্যপালের বলেন , ‘গণপ্রহার প্রতিরোধ বিল কেন সই করা হচ্ছে না, তা নিয়ে নানা রকম কথা হচ্ছে। বিরোধী নেতারা বিল নিয়ে অভিযোগ জানানোর পরে আমি খোঁজ নিয়ে সবিস্ময় দেখেছি, পেশ করার জন্য যে বিলে সই করেছিলাম এবং যে বিল পাশ করানো হয়েছে, দু’টো আলাদা! সরকার ও বিধানসভাকে প্রশ্ন করার পরে তারা জানিয়েছে, ভুল হয়েছিল।’

এই ভুল যথেষ্ট গুরুতর বলে জানিয়ে রাজ্যপাল আরও বলেন, ‘বিল পাশের দিনের অধিবেশনের কার্যবিবরণী চেয়ে চার বার চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে বলা হয় কার্যবিবরণী এখনও চূড়ান্ত হয়নি।’

ওইদিনই একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের অভিযোগের প্রত্যুত্তরে বলেছিলেন, ‘‘দুঃখের সঙ্গে বলছি, বিল সই না হওয়ায় বিধানসভা মুলতুবি হয়ে গেল। সেটা চূড়ান্ত বিল ছিল না। শুধু তা পেশ করার জন্য অনুমতির দরকার ছিল। আমরা এ সবের সম্মুখীন হচ্ছি। অবশ্য তাতে আমরা কিছু মনে করি না। আমরা লড়াই করব।’ প্রসঙ্গত, রাজভবন থেকে বিলে সম্মতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় নজিরবিহীন ভাবে দু’দিন বন্ধ হয়েছে বিধানসভার অধিবেশন।

আজ শুক্রবার বিধানসভা অধিবেশন শুরু হয়। এবার বিল নিয়ে পরবর্তী কি কার্যক্রম ঘটে তা দেখার বিষয় কিন্তু রাজ্যপালের আজকের উত্তরের পর মুখ্যমন্ত্রীর বিল সংক্রান্ত পদক্ষেপ কি হতে চলেছে তাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রইল।