কলকাতা: রাজ্যের রাজ্যপালের সঙ্গে মমতা সরকারে সংঘাত নতুন কিছু নয়৷ এবার রাজ্যপালকে দোষারূপ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি করে দেওয়া হল বিধানসভার অধিবেশন৷

বিধানসভা সূত্রে খবর, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল রাজ্যপালের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে৷ রাজভবনে সেই বিলগুলো আটকে থাকায় বিধানসভার কার্য-উপদেষ্টা কমিটিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে শীতকালীন অধিবেশন বন্ধ রাখার৷ আগামী ১৩ ডিসেম্বর বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশন শেষ হওয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু তার আগেই ১১ ডিসেম্বর নজিরবিহীনভাবে বন্ধ হয়ে গেল ওই অধিবেশন৷

যদিও রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় জানান,এসসি-এসটি বিল নিয়ে বিধানসভার অধ্যক্ষের সঙ্গে তাঁর যে চিঠির লেনদেন হয়েছে তা যেন বিধানসভাকে জানান অধ্যক্ষ। মঙ্গলবার স্পিকার বিমান বন্দোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে এই নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।

এসসি এসটি বিলে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের সই না করা নিয়ে বিধানসভার সামনে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের নেতারা৷ রাজ্যপালের বিরুদ্ধে নজিরবিহীনভাবে বিধানসভাতেই ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান তৃণমূল বিধায়কদের। মঙ্গলবার, বিধানসভার কক্ষের বাইরে প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন নিয়ে মিছিল করে আম্বেদকরের মূর্তির পাদদেশে বিক্ষোভ দেখান শাসক দলের তফসিলি জাতি-উপজাতিভুক্ত বিধায়করা। সেইসঙ্গেই রাজ্যপালের অপসারণের দাবিতে রাজ্যসভায় সরব হন তৃণমূল সাংসদরা।

আরও পড়ুন- আন্দোলন প্রত্যাহার নয়, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরেই হুঁশিয়ারি পার্শ্বশিক্ষকদের

রাজ্যের একের পর এক ঘটনায় রাজ্যপাল হিসাবে তাঁর ভূমিকায় ইতিমধ্যেই তুমুল দ্বন্দ্ব বেঁধেছে শাসক দলের সঙ্গে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতো, ধনকড় রাজ্যপালের পুরো ক্ষমতাটাই কাজে লাগাতে চাইছেন আর সেখানেই সংঘাত লাগছে শাসক শিবিরের সঙ্গে। এতে আগামী দিনে শাসক শিবিরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আরও বেশি সংঘাতময় হবে বলেই আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

এই রাজ্যের দায়িত্বভার নিয়ে যেভাবে একের পর এক বিতর্কে জড়িয়েছেন তাতে শাসকদলের নেতাদের সঙ্গে তাঁদের সদ্ভাব যে নেই তা প্রকাশ পেয়েছে। তৃণমূলের তরফ থেকে দেওয়া এসসি এসটি বিলে তার সই না করা নিয়ে আবারও বিক্ষোভ উঠেছে চরমে। শাসকদলের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল প্রয়োজনীয় সকল তথ্য দেওয়ার পরেও কেন তিনি সই করেননি তা স্পষ্ট নয়। অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন রাজ্যপাল যা জানতে চাইছেন তা জানানো হচ্ছে।