কলকাতা: রাজ্যপালের সঙ্গে সংঘাত জারি উপাচার্যদের। বৃহস্পতিবার সেন্ট জেভিয়ার্সের সমাবর্তনে যান রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সেখানে যাননি তিনি। এতেই রাজ্যপালের কটাক্ষের মুখে পড়েন তিনি। উপাচার্যের গরহাজিরা নিয়ে রাজ্যপাল বলেন, ‘আমি আসব শুনলেই উপাচার্যদের শরীর খারাপ হচ্ছে। সোনালিদেবীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।’

এরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বরাবরই রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। এমনকী বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে রাজ্যপালের অধিকার খর্ব করতে বিধানসভায় বিধিও পাশ করিয়েছে রাজ্য। উলটো দিকে রাজ্য সরকারকে এড়িয়ে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন রাজ্যপাল।

চলতি সপ্তাহের সোমবার রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যদের রাজভবনে বৈঠকে ডেকেছিলেন রাজ্যপাল। কিন্তু আচার্যের ডাকা বৈঠকে কোনও উপাচার্যই উপস্থিত হননি। সূত্রের খবর , রাজ্য সরকারের তরফে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়াতেই রাজভবনে রাজ্যপালের ডাকা বৈঠক এড়িয়েছিলেন উপাচার্য। তাঁর ডাকে বৈঠকে যোগ না দেওয়ায় উপাচার্যদের রাজ্য সরকারের হাতের পুতুল বলেও কটাক্ষ করেন জগদীপ ধনখড়।

এদিকে রাজ্যপালের ডাকা বৈঠকে না গেলেও নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে ধর্মতলায় টিএমসিপির ধরনামঞ্চে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পাশে দেখা যায় রাজ্যের তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে। ধরনামঞ্চে দেখা যায় উত্তরবঙ্গ, সিধো-কানহো ও পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়।

বৃহস্পতিবার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। সেই অনুষ্ঠানেই আমন্ত্রিত ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সমাবর্তন অনুষ্ঠানে হাজির হননি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। আর এতেই ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল। সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ না করে এবার কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যদের।