স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকায় প্রশংসা করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। তবে পরিস্থিতি নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করে রাজ্যপাল বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে কাজ করছেন। এটা একটা ইতিবাচক দিক।”

তবে রাজ্যপালের উদ্বেগ, পশ্চিমবঙ্গের জনঘনত্ব নিয়ে। কারণ, যে কোনও জীবাণু সংক্রমণের জন্য এই জনঘনত্ব যে বিপজ্জনক। আর সেটাই চিন্তা বাড়াচ্ছে রাজ্যপালের।

শুক্রবার বিকেলে রাজভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ধনকড় রাজ্যবাসীকে সতর্ক করে বলেন, “জীবাণু কোনও বাছবিচার করে না। যে কারও শরীরে সংক্রমণ ঘটতে পারে। কারণ, পশ্চিমবঙ্গের জনঘনত্বের জেরে নামতে পারে বিপদ। তাই কোনওরকম গয়ংগচ্ছ মনোভাব চলবে না।” পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাধারণ মানুষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।

রাজ্যপাল বলেন, “কোনও ধরনের কালোবাজারি এইসময় চলবে না, কেউ অতিরিক্ত আয়ের কথা ভাববেন না। এটা ভালবাসার সময়। এই সময়ে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করাও দরকার।” আগামী ২২ মার্চ সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ‘জনতা কারফিউ’-এ দেশবাসী নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ হবেন।

উল্লেখ্য, করোনা রুখতে রবিবার ‘জনতা-কার্ফু’র আবেদন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সরকারি নির্দেশ জারি করে বাধ্য করা নয়, দেশবাসীর কাছে স্বেচ্ছায় কার্ফু পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রবিবার সকাল সাতটা থেকে রাত ন’টা পর্যন্ত দেশবাসীকে স্বেচ্ছায় ঘরবন্দি থাকার আর্জি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আগামী শুক্র ও শনিবার এই নিয়ে প্রচার করুন।’’

তবে রাজভবন এবং নবান্নের বিভিন্ন ইস্যুতে মতানৈক্যের ছবিটাই বেশি সামনে আসে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপালের মন্তব্য সরকারকে সহযোগিতারই আশ্বাস দিল।