তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: বিকল্প চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিল রাজ্যের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যান পালন দফতর। কৃষি নির্ভর বাঁকুড়া জেলায় মূলত ধান, আলু ও সামান্য কিছু জায়গায় সবজির চাষ হয়। কিন্তু এই জেলার সর্বত্র পর্যাপ্ত সেচের জলের সুবিধা নেই৷

তাই অনেক সময় লাভ তো দূর অস্ত বিপুল পরিমাণ আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে হয় একটা বড় অংশের চাষিদের। আর সেই পরিস্থিতি থেকে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের মুক্তি দিতেই খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালন দফতর বিশেষ উদ্যোগী হয়েছে।

জেলা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালন দফতর সূত্রে বলা হয়েছে, গতানুগতিক পদ্ধতিতে চাষিরা ধান, আলু, পাট, তিল ইত্যাদি চাষ করে আসছেন৷ সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে বিকল্প চাষের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে৷ তেমনি ‘অসময়ে’ চাষ করে কিভাবে লাভবান হওয়া যায় সেই বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ ও চাষিদের উৎসাহিত করার কাজ শুরু হয়েছে।

এছাড়াও একটা জমিতে বছরের পর বছর একই ধরণের চাষ করলে রোগ পোকার সমস্যা দেখা দেয়। সেকারণেই একই জমিতে বছরের পর এক ধরণের চাষ না করে বিকল্প চাষের কথা ভাবতে হবে। ফলে এক দিকে রোগ পোকার আক্রমণের সম্ভাবনা কমবে৷ অন্যদিকে সহজেই বিকল্প চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয় বলে জানানো হয়েছে।

সেকারণেই জেলার বিষ্ণুপুর মহকুমা এলাকায় জেলা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালন দফতরের উদ্যোগে এই কাজে চাষিদের উৎসাহিত করতে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনই এক প্রশিক্ষণ শিবিরে কৃষকদের উৎসাহ দিতে উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সহ সভাপতি শুভাশিস বটব্যাল।

তিনি বলেন, ধান ও আলু চাষ করে সব সময় চাষিরা সব সময় সঠিক দাম পান না। সেকারণেই বিকল্প চাষে তাদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। গতানুগতিক ধান চাষ না করে যদি সুগন্ধি ধানের চাষ করা যায় তবে হয়তো দাম পাওয়া যাবে। সেই বিষয়টাই চাষিদের বোঝানোর কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

জেলা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালন দফতরের তরফে এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ওই এলাকার কৃষকরাও। তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে ক্যাপসিকাম, ব্রোকলি চাষ শুরু করেছেন। আর কয়েক দিনের মধ্যে হাতে নাতে তার ফলও মিলতে শুরু করেছে বলে জয়পুর ব্লক এলাকার বেশ কয়েক জন কৃষক জানিয়েছেন। জয়পুর এলাকার কৃষক মহাদেব মণ্ডল সরকারী সহায়তায় এই কাজ করে সাফল্য পেয়েছেন বলে জানান।

তিনি বলেন, আলু চাষ ছেড়ে আমি ছ’কাঠা জমিতে ক্যাপসিকাম লাগিয়েছি। আশা করছি এখান থেকে আমার এক লক্ষ টাকা রোজগার হবে। পলি হাউস পদ্ধতিতে আগামী গ্রীষ্মে ফুল কপি, বাঁধা কপি, ধনে পাতা চাষের উদ্যোগ তিনি নিয়েছেন। এই ব্যবস্থায় অনেক বেশি রোজগারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি জানান।

একই কথা বলেন ওই এলাকার কৃষক সমীর কুমার হাজরা বলেন, প্রথাগত ধান ও আলু চাষ করে লাভের জায়গায় অনেক সময় লোকসানই বেশি হয়। ফলে বিকল্প চাষে আমরাও আসতে চাইছি। উদ্যানপালন দফতরের উদ্যোগে প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর তারা সেই কাজটাই শুরু করতে চাইছেন বলে তিনি জানান।

বাঁকুড়া জেলা উদ্যান পালন দফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর মলয় মাজি বলেন, গ্রিন হাউস বা শেড হাউস পদ্ধতিতে ‘বিকল্প’ চাষ করলে অনেক বেশি লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। চাষিদের আমরা সেই কথাটাই বোঝাচ্ছি। জয়পুর এলাকায় এই ধরণের একটি গ্রিন হাউস তৈরি করে তা চাষিদের দেখানো হচ্ছে। এর ফলে তারা বিকল্প চাষে উৎসাহিত হবেন বলে তিনি আশাবাদী।