ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কোচবিহার: স্কুলে ৭০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু পড়ুয়া থাকলে তৈরি করতে হবে ডাইনিং হল। রাখতে হবে টেবিলও। কোচবিহারের জেলা শাসকের (সংখ্যালঘু দফতর) তরফ থেকে জারি করা এমনই এক নির্দেশিকার স্ক্রিনশট পোস্ট করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা নাগাদ নিজের ফেসবুক পেজে এই নির্দেশিকার স্ক্রিনশট পোস্ট করেন তিনি৷ এই নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

আগামী ২৮ জুনের মধ্যে সংখ্যালঘু পড়ুয়া বেশি এমন বিদ্যালয়ে এই নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে৷ এই নির্দেশিকার স্ক্রিনশট পোস্ট করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ লিখেছেন “পশ্চিমবঙ্গ সরকার সার্কুলার পাঠিয়েছে যে সমস্ত স্কুলে ৭০%-এর বেশি মুসলিম ছাত্রছাত্রী আছে সেখানে ডাইনিং হল এবং টেবিল বানাতে হবে। শিক্ষা বিভাগে হিন্দু মুসলমানের ভেদাভেদ কেন? এর পিছনে কি কোন উদ্দেশ্য আছে?”

যদিও রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু দফতরের তরফে এখনও এই ধরনের কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। দফতরের অফিশিয়াল সাইট থেকে মিলেছে তেমনই তথ্য। তবে, এক সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে এই বিজ্ঞপ্তি সমগ্র রাজ্যের জন্য নয়। এই বিজ্ঞপ্তি শুধু কোচবিহার জেলার জন্যই। আবার অপর একটি সূত্র বলছে, প্রতিটি জেলায় এই নির্দেশিকা পাঠিয়েছে রাজ্য সরকার। তাদের মধ্যে একজন স্কুল পরিদর্শক এই বিজ্ঞপ্তির কথা ফাঁস করেছেন। তবে এই বিষয়ক বিজ্ঞপ্তি সমগ্র রাজ্যের স্কুলগুলির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে চলেছে।

সর্বশিক্ষা অভিযান প্রকল্পে দেশের প্রতিটি স্কুলেই পড়ুয়াদের দেওয়া হয় মিড ডে মিল। স্কুল ছুট রুখতে মিড মিল প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে শুধুমাত্র সংখ্যালঘু সংখ্যাধিক্য স্কুলেই কেন খাবারের ঘর তৈরি করার প্রয়োজন পড়ল? মিড ডে মিল সব স্কুলে দেওয়া হয়, তাহলে আলাদা করে সংখ্যালঘুর সংখ্যা বেশি এমন স্কুলে ডাইনিং হল তৈরির নির্দেশিকা কেন জারি করা হল? ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে বিতর্ক৷