স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: মহাত্মা গান্ধী জাতীয় কর্মসুনিশ্চয়তা প্রকল্পে সরকার নির্ধারিত মজুরি না পাওয়ার অভিযোগ তুলে কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলনে নামলেন জবকার্ডধারীরা। ঘটনাটি বাঁকুড়ার সিমলাপালের মণ্ডলগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার।

সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকরা। সকাল থেকে ঝুড়ি, কোদাল, জব কার্ড নিয়ে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকরা মাঠেই স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের দাবি গরিব মানুষের টাকা সুপারভাইজার আত্মসাৎ করেছেন।

ধর্মঘটী শ্রমিকদের অভিযোগ, সম্প্রতি মণ্ডলগ্রাম গ্রামে একটি খেলার মাঠে তারা দু’দফায় বারো দিন কাজ করেছিলেন। পরে ঐ কাজের টাকা তোলার সময় তারা দেখেন দৈনিক গড়ে সত্তর টাকা হারে জনপ্রতি মজুরি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মণ্ডলগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট প্রধান তাদের ‘ঘাড় ধাক্কা’ দিয়ে বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ।

দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারভাইজারের কথা মতো কাজ করেও তারা কেউই সঠিক মজুরি পাননি বলেও তাদের অভিযোগ। বিস্তারিতভাবে ঘটনার বিবরণ সিমলাপালের বিডিও রথীন্দ্রনাথ অধিকারিকে তারা জানিয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা ধর্মঘট চালিয়ে যাবেন বলেও শ্রমিকরা জানিয়েছেন।

একশো দিনের কাজ প্রকল্পে কাজ করা শ্রমিক লক্ষীকান্ত সৎপতির দাবি, মজুরি দেওয়ার ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে। একই জায়গায় এক সাথে কাজ করে কেউ ১৩০ টাকা মজুরি পেয়েছেন, আবার কেউ ৭০ টাকা। তার অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে গেলে তিনি ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। এই অবস্থায় তারা ‘ধর্মঘটে নামতে বাধ্য’ হয়েছেন বলে তিনি জানান।

একই অভিযোগ এই প্রকল্পে কাজ করা পদ্মা বাগেরও। তিনি বলেন, গ্রামের খেলার মাঠে মোট দু’দফায় কাজ করেছি। কাজ শেষে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে দেখছি দিন পিছু সত্তর টাকা করে মজুরি পেয়েছি। সরকার যেখানে ১৯৬ টাকা রোজ মজুরি দিচ্ছে সেখানে আমরা অর্ধেকরও কম পাচ্ছি। বিষয়টি নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে গেলে তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনিও অভিযোগ করেন।

এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রধান ও অভিযুক্ত সুপারভাইজারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তাই তাদের বক্তব্য মেলেনি। তবে শ্রমিকরা বিষয়টির শেষ দেখে ছাড়বেন বলে জানিয়েছেন। প্রয়োজনে তারা দিল্লী পর্যন্ত যাবেন বলেও জানিয়েছেন।

ব্লক প্রশাসনের তরফেও মজুরি সংক্রান্ত সমস্যা হয়েছে বলে মেনে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দফতরের ইঞ্জিনিয়ারকে দিয়ে তদন্তের পর মজুরি কম পাওয়ার বিষয়টির কারণ সম্পর্কে জানা যাবে বলে সিমলাপালের বিডিও রথীন্দ্রনাথ অধিকারি জানিয়েছেন।