নয়াদিল্লি: দেশ জোড়া সংবাদ মাধ্যমকে সতর্ক করল কেন্দ্র সরকার৷ কাশ্মীর ইস্যুতে যদি ভুল তথ্য পরিবেশিত হয় বা বিভ্রান্তমূলক খবর ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়, তবে সেই সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্র৷ এক বিবৃতি জারি করে পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে সেকথা৷

কেন্দ্র জানিয়েছে শনিবার কাশ্মীরে অশান্তি ছড়ানো নিয়ে যে খবর প্রকাশিত হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভুয়ো ও বিভ্রান্তমূলক৷ এই ধরণের খবরের প্রকাশ কোনওভাবেই বরদাস্ত করবে না কেন্দ্র সরকার৷ গত ছদিনে কাশ্মীরে কোনও অশান্তি হয়নি বলে পালটা বিবৃতি প্রকাশ করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক৷ এই ধরণের খবর লাগাতার প্রকাশ করা হতে থাকলে, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে কড়া আইনি শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলে জানানো হয়েছে৷

ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে নোটিশ পাঠানো হয়েছে৷ তাদের প্রকাশিত সংবাদ কাশ্মীর উপত্যকায় নতুন করে অশান্তি তৈরি করতে পারে, এই মর্মে আইনী নোটিশ পাঠানো হয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলিকে৷

আরও পড়ুন : ৩৭০ ধারা বিলোপের পর কাশ্মীরি মেয়েদের নিয়ে ‘রসিকতা’ হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীর

শনিবার সন্ধ্যায় জম্মু-কাশ্মীরের পুলিশের প্রধান দিলবাগ সিং জানিয়ে দেন, “আজ জম্মু-কাশ্মীরে একটাও হিংসাত্বক ঘটনা ঘটেনি।” তবে সিং জানান, গত শুক্রবার শ্রীনগরে পাথর বর্ষণের মত ঘটনা ঘটেছে। তবে খুব সামান্য পুলিশ মোতায়েন করেই এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেছে।

জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ট্যুইট করা এক বিবৃতিতে জানা গিয়েছে, রাজ্য প্রশাসন রাজ্যবাসীর কাছে অনুরোধ জানাচ্ছে, তাঁরা যেন ভুয়ো খবরে উত্তেজিত না হয়ে পড়েন। কেন্দ্র সরকারের সদ্ধান্তে কাশ্মীরের উপর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর-লাদাখ পরিণত হয়েছে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। ফলে গত রবিবার রাত থেকে জম্মু-কাশ্মীরের সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। জারি করা হয় কার্ফু।

আরও পড়ুন : বখরি ইদের আগে কাশ্মীরের পশু বিক্রেতাদের সাথে কথা বললেন অজিত দোভাল

সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, শুক্রবার থেকে প্রায় ১০ হাজার লোকের জমায়েত হয় কাশ্মীরে৷ সেখান থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়া হয়৷ পালটা পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল ফাটায় ও পেলেট গান ব্যবহার করা হয়৷ তবে এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানানো হচ্ছে পুলিশের পক্ষ থেকে৷

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে কিছু বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভের ঘটনা ঘটলেও, মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ কাশ্মীরের পরিস্থিতি৷ অহেতুক উত্তেজনা তৈরি করার চেষ্টা করছে একাধিক সংবাদমাধ্যম৷ কোনও বিক্ষোভ জমায়েতেই ২০ জনের লোক ছিল না বলে পুলিশের দাবি৷ একই তথ্য দিয়েছে সেনাও৷ বারামুল্লা ও শ্রীনগরে কিছু বিক্ষোভ হলেও, তা আয়ত্বের মধ্যেই ছিল বলে জানিয়েছে সেনা৷