তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: এক মাত্র কর্মচারী অবসর নিয়েছেন মাস দু’য়েক আগেই। তখন থেকে তালা বন্ধ বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের রাধানগর গ্রামীণ গ্রন্থাগারের দরজা। সমস্যায় পড়েছে ২৩০ জনের মতো ছাত্র ছাত্রী থেকে অসংখ্য বইপ্রেমী মানুষ।

১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই গ্রন্থাগার৷ বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ৩৫০ জন। যার মধ্যে একটা বড় অংশ ছাত্র ছাত্রী। গত জুলাই মাসে একমাত্র গ্রন্থাগারিক তাঁর কর্মজীবন থেকে অবসর নেন। তারপর দু’মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই গ্রন্থাগারে কোনও কর্মী নিয়োগ হয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরে বার বার জানিয়েও কোন কাজ হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। রাজ্যে মোট ২৪৮০ টি সরকারি গ্রন্থাগার রয়েছে। তার মধ্যে ৭০০-র সামান্য বেশি কিছু গ্রন্থাগার কর্মীর অভাবে বন্ধ হতে বসেছে৷

রাধানগরের বাসিন্দা আশিস দে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন এই গ্রন্থাগারের সদস্য। আমার মতো অসংখ্য বই প্রেমী মানুষ প্রতিদিন গ্রন্থাগারে যেতেন। বইয়ের পাশাপাশি এখানে দু-তিনটি খবরের কাগজ পড়ার সুযোগ ছিল। এখন সে সব অতীত। তাছাড়া এলাকার একটা বড় অংশের স্কুল-কলেজ পড়ুয়ারা সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রচুর বই এখানে রয়েছে। কর্মচারীর অভাবে সেই সব বই পড়া থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।’

এই বিষয়ে জেলা গ্রন্থাগার কৃত্যকের সদস্য সত্যবান মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়৷ তিনি বলেন, ‘রাজ্যের সঙ্গে আমাদের জেলাতেও গ্রন্থাগারগুলি কর্মী সমস্যায় ভুগছে। এই মুহূর্তে বাঁকুড়া জেলায় ১৩০ টি গ্রন্থাগার রয়েছে। কর্মী সংখ্যা ১২৬ জন। ফলে কয়েকটি গ্রন্থাগার এই সমস্যায় পড়েছে। রাধানগর গ্রামীণ গ্রন্থাগার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপাতত মানিকবাজার গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিককে রাধানগর গ্রামীণ গ্রন্থাগারের অতিরিক্ত দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সপ্তাহের তিন দিন তিনি মানিকবাজার ও বাকি তিন দিন রাধানগর গ্রন্থাগারের যাবতীয় দায়িত্ব সামলাবেন৷’