সিঙ্গুর: শান্তিনিকেতন থেকে ফেরার পথে সিঙ্গুরের বিডিও অফিসে হাজির হলেন রাজ্যের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। কিন্তু সেখানে কোনও প্রশাসনিক শীর্ষকর্তারা উপস্থিত না থাকার দরুন তেমন ভাবে কোনও তথ্যই পেলেন না তিনি।

সিঙ্গুরে উপস্থিত এক ব্যক্তি রাজ্যপালকে জিজ্ঞাসা করেন সিঙ্গুর নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি কী? এই প্রসঙ্গে জগদীপ বলেন, ‘জমি আন্দোলনের হাত ধরে সিঙ্গুরের নাম গোটা দেশ জানে। কিন্তু এই অঞ্চলের খুঁটিনাটি জানতে যাদের প্রয়োজন সেইরকম কোনও শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি এখানে উপস্থিত নেই। পরবর্তীকালে আমি আগে থেকে জেনে নিয়ে আসব।’

এমনিতেই যাদবপুরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে উদ্ধার করা নিয়ে শাসক দলের সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন রাজ্যপাল। শুধু তাই নয়, এরপরেও একাধিকবার রাজ্য সরকারের সমালোচনা করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এই অবস্থায় খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, উনি বিজেপির লোক। এখানেই থেমে থাকেনি।

এর আগেও উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েও একইভাবে তৃণমূলের রোষের মুখে পড়েছিলেন রাজ্যপাল। সেই সময়েও প্রতিটি ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তারা। রাজ্যপালের এই সফরকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে তোপ দেগেছিল তৃণমূল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক জনসভাতে সরাসরি বলেছিলেন, রাজ্যপাল বিজেপির হয়ে কাজ করছেন। আর তারপর সোমবার শান্তিনিকেতন সফর শেষে সিঙ্গুরে যাওয়া নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েনি শাসক দল। এই প্রসঙ্গে, বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘রাজ্যপালের এই পদটির প্রতি আমার অগাধ আস্থা,শ্রদ্ধা। কিন্তু তিনি(রাজ্যের বর্তমান রাজ্যপাল) এই পদটির প্রতি অবিচার করছেন বলে আমার মনে হয়। এই ধরনের ঘটনা অনভিপ্রেত।’

এই রাজ্যে রাজ্যপালের আসনে বসার পর থেকেই বহুবার ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়েছেন জগদীপ ধনকড়। কিছু দিন আগেই দুর্গাপূজার কার্নিভালে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে ডেকে অপমান করেছেন বলে সাংবাদিকদের সামনে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন রাজ্যপাল।