স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: করোনার করাল গ্রাসে গোটা মানবজাতি। কিছুতেই মিলছে না মারণ এই ব্যাধির থেকে নিস্তার। মারণ করোনা থাবা বসিয়েছে আমাদের দেশ তথা এরাজ্যেও। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে সচেতনতায় বেঁচে থাকার মূলমন্ত্র। এই অবস্থায় দরিদ্র অসহায় মানুষদের সচেতন করতে এগিয়ে এসেছেন গৌতম রায়।

নাহ, উনি কোনও মহাপুরুষ নন। উত্তর ২৪ পরগনার জেলার মনিরামপুরের ষাটোর্ধ দরিদ্র দর্জি হলেন গৌতম রায়। যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত। আর এই আদর্শকেই সামনে রেখে দিনভর মাস্ক তৈরি করে চলেছেন। পরে তা বিনামূল্যে বিতরণ করেন এলাকার গরীব মানুষদের মধ্যে। এছাড়াও করোনাভাইরাস সম্পর্কে সাধারন মানুষকে সচেতনও করছেন তিনি। শুধু তাই নয়, বৃদ্ধ দর্জির এমন মানবিক উদ্যোগকে কুর্নিশ জানাছেন এলাকার বাসিন্দার।

জীবসেবা পরম ধর্ম, স্বামীজির এই আদর্শে দীক্ষিত পেশায় দরিদ্র দর্জি ষাটোর্ধ গৌতম রায়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত অবিবাহিত গৌতম বাবুর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার মনিরামপুরের গভমেন্ট কলোনী এলাকায় ।

এক চিলতে ঘরে মেশিন চালিয়ে সেলাই করে নিজের জীবিকা অর্জন করেন তিনি । তবে বিশ্ব জুড়ে করোনাভাইরাস যে ভাবে মহামারীর আকার নিয়েছে। তাতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে সাড়া দিয়ে, নিজের সীমিত ক্ষমতার মধ্যে জনসেবা করছেন গৌতম রায়। তাঁর এই জনসেবার আপ্লুত এলাকার আট থেকে আশি সককেই।

বৃদ্ধ গৌতম রায় নিজেই বানাচ্ছেন কাপড়ের মাস্ক। সেই মাস্ক তিনি এলাকাবাসীর মধ্যে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করছেন। দরিদ্র দর্জি গৌতম রায় বললেন, “এখন মানুষের দুঃসময়। এই সময় আমি দৈনিক ১০০ থেকে ১৫০ টি করে মাস্ক নিজে হাতে তৈরি করে জনগনকে বিনামূল্যে বিতরন করছি । আমি দর্জির কাজ ছাড়া অন্য কোনও কাজ জানিনা। পরিবারে কেউ নেই আমার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকলের কাছে অনুরোধ করেছেন এই দুঃসময়ে আমরা যেন মানুষের পাশে দাঁড়াই। এই সময় প্রত্যেক মানুষের ভাইরাসের সংক্রমন থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকা উচিত । তাই আমি দর্জির কাজ করি, কিন্তু যে মাস্ক আমি সকলের কাছে নিজে হাতে তৈরি করে পৌঁছে দিচ্ছি তার জন্য আমি কোনও মূল্য নিচ্ছি না। অনেকেই আমাকে টাকা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি কারও থেকে অর্থ সাহায্য নেইনি । এই পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই । মানুষের প্রয়োজনে আমি মাস্ক তৈরি করে বিনামূল্যেই বিতরন করব আগামী দিনেও।”

উত্তর বারাকপুর পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর অভিজিৎ মজুমদার বলেন, “গৌতম দা আমাদের দলের একনিষ্ঠ কর্মী । পেশায় দরিদ্র দর্জি হলেও উনি যে কোনও পরিস্থিতিতে মানুষের সমস্যায় নিজে ঝাঁপিয়ে পড়েন উপকারের জন্য। আজকের দিনে আমরা যে মহামারীর সমস্যায় পড়েছি, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে গৌতম দা যেভাবে নিজে দিনভর সেলাই করে মাস্ক তৈরি করে সেই মাস্ক বিনামূল্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন, তার এই ভূমিকাকে প্রশংসা করার কোনও ভাষা নেই । গৌতম দা ভালো থাকুন, সেই কামনাই করি ঈশ্বরের কাছে।” শুধু কাউন্সিলর একা নন। ষাটোর্ধ্ব এই গৌতম রায়ের এমন কাজে কুর্নিশ জানাতে ভোলেননি তাঁর প্রতিবেশীরাও।