নয়াদিল্লিঃ লোকসভা ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হয়ে গিয়েছে। সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে৷ মাঠে নেমে পড়েছেন রাজনৈতিক নেতারা৷ কোন কেন্দ্র থেকে কাকে প্রার্থী করা যায় তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তেমনই শোনা যাচ্ছে এবার লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার গৌতম গম্ভীর। অমিত শাহের নেতৃত্বে দলের বৈঠকে গৌতম গম্ভীরের নাম একপ্রকার চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। এমনটাই জানা গিয়েছে।

নয়াদিল্লি কেন্দ্রের বর্তমান সাংসদ মীনাক্ষী লেখির স্থানে গম্ভীরের মতো তারকা ক্রিকেটারকে প্রার্থী করে কার্যত মাস্টারস্ট্রোক দিতে মরিয়া অমিত শাহেরা। অন্যদিকে, মীনাক্ষী লেখির মতো দুঁদে রাজনীতির কারবারিকে দিল্লির অন্য কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হতে পারে বলে খবর।

গত কয়েকদিন আগে থেকে শোনা যাচ্ছিল যে সম্ভবত বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন গৌতম গম্ভীর। কিন্তু সে বিষয়ে কোনও দিন মন্তব্য করতে শোনা যায়নি তাঁকে। তবে ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে অমৃতসরে অরুণ জেটলির হয়ে জোরদার প্রচার করেন। যদিও অরুণ জেটলি জয়ী হতে পারেননি। গত বছর ডিসেম্বরে ক্রিকেট থেকে সন্ন্যাস নিলেও কমিউনিটি কিচেন এবং ক্রিকেটের ধারাভাষ্য নিয়ে প্রচণ্ড ব্যস্ত গৌতম গম্ভীর। পাশাপাশি, ট্যুইটারে দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সরকারের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা যায় তাঁকে।

তবে, পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর কড়া প্রতিক্রিয়া ‘নতুন ইনিংস’ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিল। পুলওয়ামায় শহিদ পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছেন গৌতম। ফলে রীতিমত সাধারণ মানুষের বেশ কিছুটা নজর পড়েছে তাঁর উপর। আর গৌতম গম্ভীরের সেই ইমেজটাকেই কাজে লাগাতে মরিয়া বিজেপি নেতৃত্ব।

যদিও গৌতম গম্ভীরকে প্রার্থী করা নিয়ে রীতিমত প্রবল চাপ রয়েছে মোদী-অমিত শাহদের। কারণ দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে ৭০টি আসনের মধ্যে বিজেপির সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র তিনে। এই পরিস্থিতিতে আপের সঙ্গে কংগ্রেসের সাম্ভাব্য জোট বিজেপিকে বিপাকে ফেলতে পারে। যদি জোট হয়, তাহলে গৌতম গম্ভীরের মতো অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে প্রার্থী আদৌ করা হবে কি না, তা নিয়ে দ্বন্দ্বে বিজেপি। ফলে এখন পরিস্থিতি কোন দিকে যায় সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজনৈতিকমহল।