শিলিগুড়ি:   মহকুমা নির্বাচনে তৃনমূল কংগ্রেস আসনের দিক দিয়ে বামেদের থেকে পিছিয়ে থাকলেও,প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে বিরোধীদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে শাসক দল।শুক্রবার শিলিগুড়িতে দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে এমনই দাবি করেন জেলা তৃনমূলের সভাপতি তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব। তিনি বলেন, মহকুমা নির্বাচনে তৃনমূলের ফল যথেষ্টই ভাল। শিলিগুড়ি মহকুমার চারটি ব্লকে মোট ভোটার রয়েছে ৪ লক্ষ ২৩ হাজার ৬৪০ জন। যার মধ্যে এই নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ৩ লক্ষ ৬৩ হাজার ৪০৬ জন। এই নির্বাচনে তৃনমূল কংগ্রেস এককভাবে চারটি ব্লকের দুই বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোট পেয়েছে ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৯৬০ টি। বামফ্রন্ট পেয়েছে ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৮৮২ টি ভোট। ভোটের নিরিখে তৃনমূল বামেদের তুলনায় ৭৮ ভোটে এগিয়ে রয়েছে। এই নির্বাচনে কংগ্রেস ও বিজেপি পেয়েছে যথাক্রমে ৫৮ হাজার ১৭৪ ও ৪৫ হাজার ৭৪৫ টি করে ভোট । গৌতম দেব বলেন, মানুষ এই নির্বাচনে আমাদের সঙ্গেই ছিল।কিন্তু অলিখিত  রামধনু জোটের কারনে ভোটের ফলে কিছুটা তারতম্য হয়েছে।কিন্তু আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বামেরা দার্জিলিং জেলার একটিও বিধানসভা কেন্দ্র দখল করতে পারবে না। মন্ত্রী বলেন,শিলিগুড়িতে নির্বাচন একটি মডেল।এখানে বিগত চার বছরে যেই কটি নির্বাচন হয়েছে,তা সম্পূর্নভাবে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। তৃনমূল কোথাও জোর করে ভোট করেনি। কিন্তু কিছু কিছু সংবাদ মাধ্যম বিরোধীদের হয়ে কাজ করে কিছু অসত্য সংবাদ প্রকাশ করছে।

অপরদিকে,মহকুমা নির্বাচনে যেই আসন গুলি ত্রিশঙ্কু হয়ে রয়েছে, সেখানে বোর্ড গড়ার ক্ষেত্রে বাম বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে এক হওয়ার আহ্ববান জানালেন গৌতম দেব। তিনি অভিযোগ করেন,কংগ্রেসের কিছু বিবেকহীন নেতা কর্মী নির্বাচনে বামেদের হাত ধরেছে।যেই বামেরা একটা সময় শিলিগুড়ির বুকে একের পর এক কংগ্রেস কর্মীকে খুন করেছে।মন্ত্রী বলেন,এখনও এই এলাকায় অনেক বিবেকবান কংগ্রেস কর্মী রয়েছেন।যারা কংগ্রেসে থেকে এখন লড়াই করে যাচ্ছেন।কিন্তু যোগ্য সন্মান পাচ্ছেন না।আমরা তাদের সরাসরি তৃনমূল যোগ দেওয়ার আহবান জানাচ্ছি।
শিলিগুড়ি মহকুমা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দেখা যায় একাধিক আসন ত্রিশঙ্কু হয়ে রয়েছে।বিরোধীরা অভিযোগ করেন তৃনমূল কংগ্রেস টাকা দিয়ে ওই আসন গুলিতে ঘোরা কেনাবেচা করবে।তবে বিরোধীদের অভিযোগকে গুরুত্ব বা দিয়ে গৌতম দেব বলেন,তৃণমূল গরীব দের দল।সিপিএম ৩৪ বছর ধরে রাজ্য কোষাগার শূন্য করেছে।তাদের অনেক টাকা। তাই তৃনমূল না সিপিএম ঘোরা কেনা বেচা করবে।