সুভাষ বৈদ্য, কলকাতা : বিপর্যয়ের ফলে তারাহুড়োতে বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল৷ সেসময় বাড়িতে রয়ে গিয়েছিল ছোট্ট গোপাল৷ তাই নিরাপদ স্থানে গিয়েও মনে শান্তি ছিল না হালদার দম্পতি৷ অবশেষে বুধবার মেট্রো কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের অনুমতি নিয়ে নিজেরাই গোপালকে উদ্ধার করলেন৷

বিপর্যয়ের পর এক কাপড়ে বাড়ি ছাড়েন ১১ নম্বর দুর্গা পিতুরি লেনের বাসিন্দা দীপান্বিতা হালদার ও দিপেন্দু হালদার। তারপর তাদের ঠাঁই হয় একটি হোটেলে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া সত্ত্বেও উদ্বেগের মধ্যে তাঁদের চারদিন কেটেছে৷ কারণ একটাই৷ ভাঙা বাড়িতে অনাহারে একা রয়েছে গোপাল৷ এরপরই তাঁকে কাছে পাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠেন স্বামী-স্ত্রী৷

মেট্রো কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের কাছে বিগ্রহ উদ্ধারের আবেদন জানান তাঁরা৷ অনুমতি পেয়ে বুধবার অন্ধকার বাড়িতে ঢুকে গোপালকে কোলে তুলে নেন৷ বাইরে বেরিয়ে আপ্লুত দীপান্বিতা হালদার বলেন, “গোপালই তাদের সব। তাকে নিয়েই আমরা খুশি। গোপাল ভাল থাকলে আমরাও ভাল থাকবো। আমরা যেখানে যে অবস্থায় থাকি না কেন, গোপাল আমাদের সঙ্গেই থাকবে।”

উল্লেখ্য, ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর কাজের জেরে বুধবারও বউবাজারের দুর্গাপিতুরি পাড়া লেনে একটি বাড়ি হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে। পাশাপাশি ওই এলাকার স্যাকরা পাড়া এবং হিদারাম ব্যানার্জি লেনে অনেকগুলি বাড়িতে নতুন করে বড় বড় ফাটল ধরেছে। ফলে বৌবাজারে ওই তিনটি মহল্লায় এখন চূড়ান্ত দুর্দশা স্থানীয়দের। সবাই প্রাণ ভয়ে বাড়ি ছাড়তে শুরু করেছেন। গোটা মল্লাটি এখন কার্যত ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে।

দীপান্বিতা হালদার ও দিপেন্দু হালদারের বিশ্বাস, গোপাল তাঁদের সঙ্গে থাকলে সব প্রতিকূলতা দ্রুত কেটে যাবে৷ আবার চেনা ছন্দে দেখা যাবে পিতুরি লেন-স্যাঁকরাপাড়া লেনকে৷ হালদার দম্পতির এই নিখাদ বিশ্বাসের উপর ভরসা রাখছেন বৌবাজারের অন্যান্য ঘরছাড়ারা৷