ওয়াশিংটন: আন্তর্জাতিক নারী দিবসে গুগল ডুডলের হোমপেজে বিশ্বে ১২ টি দেশের মহিলা চিত্রশিল্পীদের মধ্যে নিজের জায়গা করে নিলেন এক ভারতীয় মহিলা চিত্রশিল্পী৷

৮মার্চ৷ ইন্টারন্যাশনাল উইমেনস ডে৷ যদিও এই দিনটি পালন করা উচিত কি উচিত নয় সে নিয়ে চারিদিকেই হচ্ছে বিস্তর জলঘোলা৷ কেউ কেউ বলছেন কেন এই একটিমাত্র দিনকেই আন্তর্জাতিক মহিলা দিবস হিসাবে পালন কার হবে? আবার কেউ বলছেন আলাদা করে মহিলা দিবস পালন মানেই পুরুষদের থেকে মহিলাদের দুর্বল করে দেখানো৷ যখন কিনা সারা বিশ্বের মহিলারা পুরুষদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নিজেদের সমান ভাবে দক্ষ এটা প্রমাণ করছেন৷ বিতর্ক সে যাই থাকুক সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক মহিলা দিবস পালনের এই দিনটিতে গুগল কোনওরকমভাবেই পাশকাটিয়ে যাচ্ছেনা৷ বরং গুগল ডুডলের মাধ্যমে সারা বিশ্বকে আরও একবার মনে করিয়ে দিল আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস৷ সেই ডুডলেই স্থান পেলেন এক ভারতীয় মহিলা৷

গুগল সারা বিশ্বের মোট ১২টি মহিলা চিত্রশিল্পীর আঁকা ছবির গল্প তুলে ধরেছে৷ আমেরিকা, জাপান, ভারত, পাকিস্তান ও মেক্সিকোর মহিলা সহ ১২ টি দেশের মহিলাদের ১২টি আলাদা আলাদা দিক তুলে ধরেছে৷ বৃহস্পতিবার এই বিশ্বখ্যাত কোম্পানিটি তাদের ‘গুগল ডুডল’ হোমপেজ সার্চে এই ১২ জনকে তাদের নিজস্ব আঙ্গিকে জায়গা করে দিয়েছে৷

এই প্রতিটি চিত্রে এই মহিলা চিত্রশিল্পীরা তাঁদের আঁকা ছবিতে মহিলাদেরই তুলে ধরেছেন৷ অর্থাৎ ছবির বিষয়বস্তু নারী৷ এই ইলাস্ট্রেশনে নারীরা কোথাও যুবতী থেকে বার্ধক্যে এগিয়েছেন কোথাও আবার প্রণয়ের সম্পর্কে জড়িয়েছেন৷ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই গুগল ডুডলের হোমপেজে বিভিন্ন ভাষায় এর সাবটাইটেলগুলি দেখা যাবে৷

গুগল ডুডলের প্রডাক্ট মার্কেটিং ম্যানেজার পেরলা কম্পাস জানিয়েছেন, “এই বছর, আমরা চেষ্টা করেছি নারীদের গল্প ও কন্ঠস্বর সকলের সামনে তুলে ধরতে ও তাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে৷ চেষ্টা করেছি মহিলাদের অভিজ্ঞতা তাঁদের নিজেদের সমতা ও পার্থক্যগুলিকে নিয়ে তাদের উদ্বুদ্ধ করতে৷”

ভারতের কাভেরি গোপালাকৃষ্ণণ গুগল ডুডলের ওই ১২টি দেশের মহিলাদের মধ্যে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন৷ তিনি জানিয়েছেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে এই দিনটি নারীকে চিহ্নিত করা (অন্যদের মধ্যে) ও নারীর স্বীকৃতির জন্য একটি দিন নয় এবং এই রকম প্রচেষ্টা যা সকলের জন্য তৈরি করা হয়েছে তার স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি আমি সবসময় সে ব্যক্তিগত হোক বা পেশাগত, আমি আমার লিঙ্গকে ‘কি ফ্যাক্টর’ হিসেবে মনে করিনা৷ আমি দিনটিকে আনন্দ উৎসব পালনের দিন হিসাবে দেখিনা৷ বরং মনে করি এই দিনটি নারীদের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার দিন৷”