নিউইয়র্ক: নিজের ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনের গুগলে গিয়ে ইনকগনিটো মোডে দিব্যি দেখে চলেছেন একের পর এক পর্ন সাইট৷ ভাবছেন কোনও সমস্যা নেই, তাই তো? তবে সাবধান হয়ে যান৷ গুগল, ফেসবুক এমনকি ওরাকল ক্লাউডও আপনার ইন্টারনেট গতিবিধির ওপরে নজর রাখছে৷ খুব গোপনীয়তা রক্ষা করে আপনার যাবতীয় সার্চে নজরদারি চালাচ্ছে এই সব সংস্থা৷

মাইক্রোসফটের করা এক যৌথ সমীক্ষায় ধরা পড়েছে এই তথ্য৷ মাইক্রোসফট কারনেগি মেলন ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়া সমীক্ষা করে দেখেছে ২২ হাজার ৪৮৪টি পর্ন ওয়েবসাইটের ওপর৷ ওয়েবএক্সরে নামে একটি টুলের মাধ্যমে চলেছে এই সমীক্ষা৷ জানা গিয়েছে ৯৩ শতাংশ পর্ন সাইটগুলিতে নিয়মিত ট্র্যাক করা হয় ও গ্রাহকদের তথ্য ফাঁস হয়ে যায়৷

আরও পড়ুন : আসছে চিপ বসানো ই-পাসপোর্ট, মিলবে নতুন সুবিধা

গবেষকরা জানাচ্ছেন গুগল, ফেসবুকের মত বড় বড় সংস্থা এই সব সাইটগুলিকে নিয়মিত ট্র্যাক করে৷ শুধু তাই নয়, এরকম মোট ২৩০টি কোম্পানি রয়েছে, যারা নজরদারি চালায় আপনার ব্যবহার করা পর্ন সাইটে৷ সমীক্ষা বলছে গুগল ৭৪ শতাংশ সাইটে, ফেসবুক ১০ শতাংশ সাইটে ও ওরাকল ১৬ শতাংশ সাইটে নজরদারি চালায়৷ এছাড়াও উল্লেখযোগ্য ট্র্যাকার সংস্থাগুলি হল এক্সোক্লিক, জুসিঅ্যাড ও এরোঅ্যাডভারটাইসিং৷

এইসব ট্র্যাকার সংস্থাগুলির তালিকায় প্রথম দশে রয়েছে মার্কিন কোম্পানিগুলি৷ তবে বাকি কোম্পানিগুলি সবই ইউরোপের, বলছে সমীক্ষা৷

আরও পড়ুন : কর্মী না হয়েও ৮০ হাজার টাকা রোজগার রেল থেকে, জানুন উপায়

তিন গবেষক মাইক্রোসফট রিসার্চের এলিনা ম্যারিস, কারনেগি মেলন ইউনিভার্সিটির টিমোথি লিবার্ট ও ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভেনিয়ার জেনিফার হেনরিচসনের দাবি তাঁরা ৩৮৫৬টি পর্ন সাইটের গ্রাহকদের তথ্য হ্যাক করতে সক্ষম হয়েছেন, যা মোট সাইটের ১৭ শতাংশ৷

গবেষকরা বলছেন যেভাবে এই সব সাইটে গ্রাহকদের তথ্য সংরক্ষিত থাকে, তা বের করতে খুব একটা কষ্ট করতে হয় না৷ হ্যাকাররা খুব সহজেই সেই সব তথ্য হাতে পেয়ে যেতে পারেন৷ এভাবেই নাকি প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় ৪৪ শতাংশ গ্রাহকদের তথ্য ফাঁস হয়ে যায়৷ গবেষকদের এই সমীক্ষা নিউ মিডিয়া অ্যাণ্ড সোসাইটি নামে একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে৷