কলকাতা: লকডাউনের মধ্যেই খুলে দেওয়া হয়েছে মিষ্টির দোকান৷ এবার আগামী বুধবার থেকে খুলে দেওয়া হবে ফুল বাজার৷ হাওড়া, হুগলি, দুই মেদিনীপুর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফুলচাষিদের জন্য কলকাতার বাজার খোলার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷

মঙ্গলবার বিকেলে নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন,বুধবার থেকেই রাজ্যে খুলে যাচ্ছে ফুলবাজার৷ পাশাপাশি কিষান মান্ডি খুলে দেওয়ারও কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ একই নির্দেশ জারি করা হয়েছে পানচাষিদের ক্ষেত্রেও৷

লকডাউনে এবার মিষ্টির দোকানের পর ছাড় দেওয়া হল ফুল বাজার, কিষাণ মান্ডি, পান চাষীদের ৷ ফুলচাষীদের ফুল নিয়ে বাজারে যাওয়ার গাড়িতেও ছাড় ৷ বুধবার থেকেই লোকাল মার্কেটে ফুল নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতে পারবেন চাষীরা৷

বাড়িতে বসে বিড়ি বাঁধার ক্ষেত্রেও শ্রমিকদের ছাড় দেওয়ার কথা এদিন ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তিনি বলেন, সামাজিক দূরত্ব মেনে বাড়িতে বসে বিড়ি বাঁধার কাজ করতে পারেন শ্রমিকরা ৷ তবে একসঙ্গে একজায়গায় ৭ জনের বেশি লোক যেন না থাকে ৷ বিড়ি এজেন্টরা শ্রমিকদের থেকে বিড়ি সংগ্রহ করে পৌঁছে দিতে পারবেন মার্কেটে ৷

ফুল বাজার, কিষাণ মান্ডি খুললেও সামাজিক দুরত্ব ও লকডাউনের নিয়ম মাথায় রাখার কথা মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ বাজারে গেলে পরতেই হবে মাস্ক, কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর ৷ একইসঙ্গে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা চেষ্টা করব প্রত্যেকটা বাজারের সামনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখার ব্যবস্থা করতে৷ বাজার কমিটিগুলোকে এব্যাপারে দায়িত্ব দেওয়া হবে ৷ ফিভার সার্ভের জন্য আমরা একটা মোবাইল অ্যাপ করছি ।

বিড়ি শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ‘লকডাউনের জেরে অসংগঠিত একাধিক ক্ষেত্রের মতোই সমস্যায় পড়েছেন বিড়ি শ্রমিকরাও। তাঁরাও বাড়িতে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৭ জন বসে বিড়ি বাঁধতে পারবেন। পরে সেই বিড়ি বাজারেও নিয়ে যেতে পারবেন।’

প্রসঙ্গত,২১ দিনের লকডাউনে চরম সংকটে বিড়ি শ্রমিকরা৷ উৎপাদন বন্ধ কারখানায়।একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে,‌ এ রাজ্যে সংকটে পড়া বিড়ি শ্রমিকের সংখ্যা ১৫ লক্ষের বেশি। ওই প্রতিবেদন জানাচ্ছে, রাজ্যে মুর্শিদাবাদ জেলায় অনেক বিড়ি শ্রমিকরা বাড়ি বসে বিড়ি বানিয়ে দিনে ১৫২ টাকা পান। কিন্তু গত কয়েকদিন সেই টাকাও জুটছে না। ফলে ওইরকম একটি পরিবারের গৃহিণী রবিবার জানিয়েছেন, তার জানা নেই কিভাবে এখন দুবেলা খাওয়া জুটবে।

এইসব বিড়ি শ্রমিকদের বক্তব্য, যা জমানো টাকা রয়েছে এবং সীমিত রেশনের উপর নির্ভর করে বাঁচা সম্ভব নয়। সরকার যদি বিড়ির উৎপাদনে অনুমতি দেয় তবেই তারা বাঁচতে পারবে। মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় এমন অনেক পরিবার রয়েছে যাদের গোটা পরিবারটাই বিড়ি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। জঙ্গিপুর মহকুমায় প্রায় শতাধিক বিড়ি ফ্যাক্টরি রয়েছে। এখানকার কুটির শিল্পের বিড়ি দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিক্রি হয়।