স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ভোট মিটেছে৷ কিন্তু রাজ্যে হিংসার অন্ত নেই৷ উত্তরের কোচবিহার থেকে দক্ষিণের সন্দেশখালি, সর্বত্রই সন্ত্রাসের আবহ৷ রক্তপাত, হিংসা যেন নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা৷ কখনও কাঠগড়ায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল৷ আবার কখনও বা বিজেপি৷ বাদ পড়ছে না বাম অথবা কংগ্রেস কর্মীরাও৷ এই পরিস্থিতির বদল চাই৷ প্রতিবাদে চলতি সপ্তাহের শুক্রবার গণ অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব৷

বিধান ভবনের নেতার রাজ্যের এই অবস্থায় জন্য এক যোগে যুযুধান বিজেপি ও তৃণমূলকে দায়ী করেছেন৷ বাংলা যেন দাঁড়িয়ে বারুতের স্তুপের উপর৷ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি এই অবস্থার বদল চান৷ এক প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও রাজ্যের তৃণমূল সরকার এই রাজ্যের সর্বনাশের খেলায় নেমেছে। এই ধরণের ভোট পরবর্তি হিংসা আগে দেখা যায়নি। ব্যক্তিগত গন্ডগোলও উঠে আসছে রাজনৈতিক বিষয় হিসাবে৷ প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব মনে করছে, এর ফলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছে বাংলার সাধারণ মানুষের৷

আরও পড়ুন: মোদী জিংপিং বৈঠকে উঠতে পারে মার্কিন শুল্ক উত্তাপ প্রসঙ্গ

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তোপ দেগে হাত শিবিরের প্রদেশ নেতত্বের প্রশ্ন, বন্দুক, বোমা আসছে কোথা থেকে? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একের পর এক পুলিশ জেলা বানাচ্ছেন। কিন্তু তারপরেও কেন সন্ত্রাস থামানো যাচ্ছে না? অবস্থার বদলের জন্য রাজ্যবাসীকেই এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয় প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের তরফে৷

আরও পড়ুন: আলিগড়ে দু’বছরের টুইঙ্কল খুনের প্রতিবাদে কলম ধরলেন বাংলার কবি-রা

লোকসভা ভোটেই দেশ ব্যাপী হাত শিবিরের ফল খারাপ হয়েছে৷ বঙ্গেও ৪ থেকে কমে আসন দাঁড়িয়েছে দু’য়ে৷ এই অবস্থায় ফের রাজপথে নেমে অস্তিত্ব জানান দিতে মরিয়া সোমেন মিত্র, আবদুল মান্নানরা৷ রাজনীতি মুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, স্বাস্থ্যের অধিকার ও কৃষকদের সঠিক সহায়ক মূল্যের মতো দাবি নিয়ে ফের রাজনীতির ময়দানে কংগ্রেস৷ মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত গণ অবস্থান কর্মসূচি পালনের ডাক দিয়েছে প্রদেশ নেতৃত্ব।

রাজ্যে হিংসার পরিস্থিতি তুলে ধরে আন্দোলনে বিজেপি৷ কেন্দ্র রাজ্যকে অ্যাজভাইজারি নোট পাঠিয়েছে৷ যার বিরোধীতায় তৃণমূল সরকার৷ উঠে আসছে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবিও৷ মমতা সরকারকে ফেল দেওয়ারও সম্ভাবনা দেখছেন অনেকেই৷ প্রদেশ কংগ্রেস অবশ্য মনে করে, বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারির প্রয়োজন নেই৷ কিন্তু, গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে৷ বিরোধীদের সমালোচনা সহ্য করতে হবে সরকারকে৷ শাসক দল হিসাবে তৃণমূলকেই উদ্যোগ নিতে হবে সুস্থ্য পরিবেশ ফিরিয়ে আনার৷