নয়াদিল্লি: দিল্লিতে চলছে এক বিশেষ পার্টি। না, তাতে কোনও মদ-মাংস নেই। আসলে এটা করোনা তাড়ানোর পার্টি। সেখানে আছে শুধুই গ্লাস ভর্তি গোমূত্র। আর সেটাই খাচ্ছে সাধু-সন্তরা।

স্বামী চক্রপাণী মহারাজ এই পার্টির আয়োজন করেছেন। ইনিই সেই ব্যক্তি যিনি কেরলের বন্যা বিধ্বস্তদের সাহায্য করতে নিষেধ করেছিলেন, কারণ তাঁরা ‘বিফ’ খান। তিনিই এবার করোনার মুখে গোমূত্র ঢেলে দিতে চাইছেন।

অল ইন্ডিয়া হিন্দু মহাসভার প্রধান তিনি। জানা গিয়েছে, তাঁর পার্টিতে জড় হয়েছিলেন শ’দুয়েক লোক। তাঁরা এমন পার্টি দেশের বিভিন্ন জায়গায় করতে চাইছেন। যদিও কোনও জমায়েত না করাই ভালো বলে জানিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এদিকে আবার বিতর্কিত মন্তব্য করলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গী। বিজয়বর্গীর দাবি, ভারতে ৩৩ কোটি দেব-দেবী আছে, এখানে করোনা কিছুই করতে পারবে না।

ভারতে ক্রমশ বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। দু’জনের মরত্যুর খবরও এসেছে, আর যা ভাবাচ্ছে সব রাজ্যের প্রশাসনকে। প্রয়োজনীয় সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫। মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য সচেতন থাকার বার্তা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

দিলীপ ঘোষের পর কৈলাস বিজয়বর্গীর উখে এমন মন্তব্য শুনে চমকে যাচ্ছেন অনেকেই। তিনি একটি ধর্মীয় সম্মেলনে গিয়ে বলেন, ‘হনুমানজি সব করোনা তাড়িয়ে দেবেন। আমাদের দেশে ৩৩ কোটি দেব-দেবীর বাস, তাই এখানে করোনা ভাইরাস কোনও প্রভাব ফেলতে পারবে না।

যাগযজ্ঞ, পূজার্চনা, গোমূত্র-গোবর দিয়ে করোনা সংক্রমণ সারানোর নিদান তো ছিলই। তবে এবার বিজেপি নেতারা দেবদেবীর শরণাপন্ন হতেও পরামর্শ দিচ্ছেন। কিছুদিন আগে বঙ্গ বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ নিদান দিয়েছিলেন, ‘মায়ের প্রসাদ খেলে করোনা হবে না। মায়ের আশীর্বাদ আমাদের মাথায় রয়েছে বলেই আমরা সুরক্ষিত।’ দিলীপের তত্ত্ব ঘিরে শোরগোল পড়ে যায় চিকিৎসক মহলে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ