চেন্নাই:  মন্দিরের নীচে গুপ্তধনের খোঁজ। জম্মুকেশ্বর মন্দিরে খননকাজ চলছিল। আর সেই খননকাজ চলাকালীন মাটির নীচ থেকে উদ্ধার হয় পিতলের পাত্র। আর সেই পিতলপাত্র নিয়েই হৈহৈ কাণ্ড বেঁধে যায়। কারণ সেই পিতলের পাত্র থেকে মিলেছে ১.৭১৬ কিলোগ্রাম ওজনের ৫০৫টি সোনার মুদ্রা। একসঙ্গে এত গুলি স্বর্ণমুদ্রা আবিষ্কার হওয়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

মন্দির তরফে জানানো হয়েছে যে, মাটির তলা থেকে উদ্ধার হওয়া মুদ্রাগুলি ৫০০ এরও বেশি ছোট আকারের মুদ্রা। যদিও এর মধ্যে একটি বড়। মুদ্রার পিছনে আরবি হরফে বিভিন্ন শব্দ খোদাই করা রয়েছে। যদিও সেটি বোঝা যাচ্ছে না কি লেখা রয়েছে তাতে। তবে মনে করা হচ্ছে, খ্রিস্টপূর্ব এক হাজার থেকে বারোশো শতকের পুরনো এই মুদ্রাগুলি। সেই আরবি হরফে কী লেখা আছে জানতে ডাকা হয়েছে এক ভাষাবিদকে।

মন্দির প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া পাত্রটিতে কানায় কানায় ভর্তি ছিল স্বর্ণমুদ্রা। মাটির নীচে প্রায় সাত ফুট অবস্থায় ছিল। সমস্ত স্বর্ণমুদ্রা সমেত পাত্রটিকে স্থানীয় প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কোন সময়ের এই সোনার মুদ্রাগুলি তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এজন্যে এক ইতিহাসবিদ এবং প্রত্নতাত্ত্বিকের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। পাত্র ও সোনার মুদ্রাগুলিকে ল্যাবরেটরিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেগুলি পরীক্ষা করে তারা জানাবেন মুদ্রাগুলির আসল বয়স কত। কোন সালে তা তৈরি করা হয়।

অন্যদিকে, মন্দিরের নীচ থেকে এত সোনার মুদ্রা উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়া মাত্র ভিড় জমান স্থানীয় মানুষজন। স্থানীয় মানুষজন জানাচ্ছেন, জম্বুকেশ্বর মন্দিরের কাছে অনেক বছর আগে এক রাজা থাকতেন। সম্ভবত তিনিই শত্রুপক্ষের হাত থেকে সোনার মুদ্রাগুলিকে বাঁচানোর জন্যে এভাবে মাটির নীচে পুঁতে রেখেছিলেন। যদিও এখনও এই বিষয়ে কিছুই বলতে পারছেন না প্রশাসনের আধিকারিকরা। পুরো জায়গাটিকে ঘিরে রাখা হয়েছে। ওই এলাকায় মাটির নীচে আরও সম্পদ লুকিয়ে রয়েছে কিনা তা আগামীদিনে খোঁজ করা হবে বলে জানা যাচ্ছে।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব