কল্যানী: ডার্বির আগে প্রকট হল ইস্টবেঙ্গলের দৈন্যদশা। আগামী রবিবার আই লিগের প্রথম বড় ম্যাচ। তার আগে বুধবার ম্যাচ জিতে লিগ টেবিলে নিজেদের অবস্থান উন্নত করার পাশাপাশি আলেজান্দ্রোর ছেলেদের কাছে সুযোগ ছিল কিবু ভিকুনার দলের বিরুদ্ধে নামার আগে প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাস জুগিয়ে নেওয়ার। কিন্তু কোথায় কী? ম্যাচ জয় তো দূর অস্ত, ডার্বির আগে কদর্য ফুটবল উপহার দিয়ে ডুরান্ড জয়ী গোকুলাম কেরালার কাছে ১-৩ গোলে ধরাশায়ী হল ইস্টবেঙ্গল।

চার্চিলের বিরুদ্ধে হেরে যাওয়া ম্যাচের একাদশে জোড়া পরিবর্তন এনে গোকুলামের বিরুদ্ধে এদিন ঘুঁটি সাজিয়েছিলেন লাল-হলুদের স্প্যানিশ বস। অন্যদিকে হেনরি কিসেকা, মার্কাস জোসেফ সমৃদ্ধ গোকুলাম তিন পয়েন্টের লক্ষ্যে কল্যানীতে নেমেছিল একাদশে হাফডজন পরিবর্তন নিয়ে। ঘরের মাঠে যদিও এদিন জুয়ান মেরার পা ধরে প্রথম গোলের সুযোগ পায় লাল-হলুদ। কিন্তু বক্সের সামান্য বাইরে থেকে স্প্যানিশ মিডিওর নেওয়া শট সেযাত্রায় রক্ষা করেন বিপক্ষ গোলদুর্গের নীচে দাঁড়ানো ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তনী উবেইদ।

পালটা ১৫ মিনিটে গোলের সামনে বল ধরে লাল-হলুদ গোলরক্ষক রালতেকে একা পেয়েও তা গোলে রাখতে ব্যর্থ হন গোকুলাম স্ট্রাইকার হেনরি কিসেকা। ত্রাতা হিসেবে লাল-হলুদ গোলরক্ষকের ভূমিকা এক্ষেত্রে প্রশংসার দাবি রাখে। প্রতিহত হওয়া বলে বিপজ্জনক মার্কাস জোসেফ শট নিলে তাও রক্ষা পায় রালতের দস্তানায়। বারদু’য়েক অসফল হওয়ার পর ২১ মিনিটে অবশেষে ইস্টবেঙ্গল রক্ষণ ভেদ করতে সক্ষম হন উগান্ডার স্ট্রাইকার হেনরি কিসেকা। সেবাস্তিয়ানের পাস ধরে ইস্টবেঙ্গল সাইডব্যাক অভিষেক আম্বেকরকে ড্রিবলে পরাস্ত করে স্কোরলাইন ১-০ করেন তিনি।

তবে দক্ষিণের দলটির নেওয়া সেই লিড স্থায়ী হয় মাত্র ছ’মিনিটের জন্য। অধিনায়ক লালরিনডিকার ভাসানো ফ্রি-কিকে আশির আখতারের হেড প্রাথমিকভাবে পোস্টে লেগে প্রতিহত হলে ফিরতি বল জালে রাখেন কাশিম আইদারা। ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে ঘরের মাঠে তিন পয়েন্ট তুলে নেওয়ার লক্ষ্যে আগুয়ান ইস্টবেঙ্গল যদিও ফের ধাক্কা খেয়ে বসে প্রথমার্ধের সংযুক্তি সময়ে। ক্রেসপি-আশিরদের বোকা বানিয়ে মার্কাস জোসেফের এই গোলই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় ইস্টবেঙ্গল রক্ষণভাগের দুরাবস্থা। যদিও বক্সের মধ্যে বাঁ-দিক থেকে নেওয়া ত্রিনিদাদ স্ট্রাইকারের নেওয়া কোনাকুনি শট গোলে ঢোকার মুখে তা ক্লিয়ার করতে গিয়েছিলেন ক্রেসপি। উলটে তা আরও ভালোভাবে গোলে প্রবেশ করিয়ে দেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার। গোলটি আত্মঘাতী গোল হিসেবেই বিবেচিত হয়।

গোল খেয়ে কার্যত হতোদ্যম হয়ে পড়ে ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয়ার্ধেও বজায় থাকে তাদের কদর্য ফুটবল। আক্রমণে পরিকল্পনার অভাব, ছন্নছাড়া ডিফেন্স সবমিলিয়ে যেন ডার্বির আগে আলেজান্দ্রোর কপালে চওড়া ভাঁজ। ফার্নান্দো স্যান্তিয়াগো ভারেলার দলের রক্ষণকে দ্বিতীয়ার্ধে সেই অর্থে কোনওরকম পরীক্ষার মুখে ফেলতে ব্যর্থ গতবারের রানার্সরা। উলটে ৬৫ মিনিটে লাল-হলুদের কফিনে তৃতীয় পেরেক পুঁতে দিয়ে ম্যাচ পকেটে পুড়ে নেয় আই লিগ জয়ের অন্যতম দাবিদাররা।

এক্ষেত্রে প্রতি আক্রমণে হেনরি কিসেকার থ্রু বল ধরে প্রতিপক্ষ বক্সে আগুয়ান হন জোসেফ। এরপর তাঁর জোরালো শট রালতে প্রথমবারের প্রচেষ্টায় আটকাতে সচেষ্ট হলেও ফিরতি বল বিনা বাধায় জালে জড়িয়ে দেন ত্রিনিদাদ স্ট্রাইকার। এই জয়ের ফলে ৬ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে চার নম্বরে উঠে এল গোকুলাম। অন্যদিকে সমসংখ্যক ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচেই রইল ইস্টবেঙ্গল। এমতাবস্থায় ৭ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শীর্ষে থাকা মোহনবাগানের বিরুদ্ধে আগামী রবিবার সম্মানের লড়াইয়ে নামবেন কোলাডোরা।