নয়াদিল্লি: বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে৷ ঠিক কী হতে চলেছে, সন্ত্রাসবাদ নির্মূল নাকি ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়া, কোন দিকে এগোচ্ছে কাশ্মীরের বিষয়টি, এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সংবাদ মাধ্যমে বারবারই বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন ওঠে৷ উপত্যকায় কেন্দ্রের বারবার সেনা মোতায়েন সেই বিষয়টিই যেন থেকে থেকে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে৷ রবিবার রাত থেকেই এই যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর যেন একটু একটু করে স্পষ্ট হচ্ছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের৷

রবিবার মধ্যরাতে হঠাৎ করেই গৃহবন্দি করা হয় দুবারের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এবং ওমর আবদুল্লাকে। শুধু তাই নয়, গৃহবন্দি হলেন প্রাক্তন বি‌ধায়ক সাজ্জাদ লোনও। গ্রেফতার করা হয় সিপিএম নেতা ইউসুফ তারিগামি এবং কংগ্রেস নেতা উসমান মজিদকেও৷ উপত্যকা জুড়ে জারি করা হল ১৪৪ ধারা। অনির্দিষ্ট কালের জন্য জারি করা হয়েছে কার্ফু। একদিকে যেখানে এই পরিস্থিতি, অন্যদিকে সেখানেই কেন্দ্রের ঘন ঘন বৈঠকও চলছে৷

রবিবারের টানাপোড়েনের রাত কাটতে না কাটতেই সোমবার রাজ্যসভায় আর্টিকল ৩৭০ তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এও বলা হয়েছে, লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হবে, সেখানে কোনও বিধানসভা থাকবে না। আর জম্মু-কাশ্মীরের প্রতি কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক তোপ দাগছেন মেহবুবা মুফতি৷ সোমবার সকালে এক ঘন্টার মধ্যে পর পর সাতটি ট্যুইট করেছেন তিনি৷

প্রথম ট্যুইটে তাঁর দাবি, এই দিনটি ভারতের গণতন্ত্রে সবথেকে কালো দিন৷ ৩৭০ ধারা নিয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অবৈধ এবং অসাংবিধানিক৷ আরেকটি ট্যুইটে তিনি তোপ দেগে লেখেন, ভারত সরকার কী করতে চাইছে তা স্পষ্ট৷ ভারতে একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যের ‘Demography’ বদলে ফেলতে চাইছে তারা৷

পড়ুন: কেন্দ্রের বড় সিদ্ধান্ত, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে কাশ্মীর ও লাদাখ

তাঁকে গৃহবন্দি করা নিয়ে তিনি লেখেন, তাঁকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে৷ এরপর তিনি সকলের সঙ্গে আদৌ আর যোগাযোগ রাখতে পারবেন কিনা সোশ্যাল মিডিয়ায়, সেই নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি৷ সব মিলিয়ে রীতিমতো উত্তপ্ত পরিস্থিতি কাশ্মীরের৷