ফাইল ছবি

ভোপাল: দুই তরুণ-তরুণীর প্রেম৷ যার পরিণতি গড়াল বিয়ে অবধি৷ ভ্যালেন্টাইস ডে’তে চার হাত এক হয় তাদের৷ এখানে বলে রাখা ভালো আর পাঁচটা ভালোবাসার গল্পের থেকে এই গল্প আলাদা৷ তাহলে খুলেই বলা যাক৷ প্রেমিকের ভালোবাসার পাত্রী এক রূপান্তরিত মহিলা৷ এমন এক মহিলাকে বিয়ে করে নজির গড়লেন ৩২ বছর বয়সী জুনেইদ খান৷

তবে এই বিয়ের জন্য কম ঝামেলা পোহাতে হয়নি জুনেইদকে৷ একে মেয়ে রূপান্তরিত৷ তার উপর হিন্দু৷ ফলে সমাজের সব দিক থেকে জুনেইদের উপর আসে চাপ৷ কিন্তু সব বাধা হেলায় উড়িয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি জয়াকে সিংপারমারকে বিয়ে করেন তিনি৷ মধ্যপ্রদেশের একটি মন্দিরে বসে বিয়ের আসর৷ জয়া হিন্দু মেয়ে৷ তাই হিন্দু রীতিনীতি মেনে বিয়ে হয় তাদের৷ এবার ইসলাম মতে বিয়ে হবে তাদের৷ সেই প্রস্তুতিও চলছে৷

বিয়ের পর উচ্ছসিত জয়া৷ জানিয়েছেন, এখন এই দেশে এক রূপান্তরকামী বা রূপান্তরিত পুরুষ ও নারীর বিয়ের কথা কেউ চিন্তাই করতে পারে না৷ জুনেইদের পরিবার শুরু থেকে তাদের সম্পর্কের বিরোধী ছিল৷ তাস্বত্ত্বেও জুনেইদ তাঁকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়৷ শ্বশুড়বাড়ি এখনও জয়াকে মেনে নেয়নি৷ আশা খুব তাড়াতাড়ি তাঁকে মেনে নেবে জুনেইদের পরিবার৷ অপরদিকে জুনেইদও সবসময় জয়ার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন৷ বলেন, ‘‘পরিবার মেনে নিলে ভালো৷ তা না হলেও সবসময় জয়ার পাশে থাকব৷ জয়াকে খুব ভালোবাসি৷ তাঁকে সুখে রাখব৷’’

বর ও কনের বন্ধুরা জানিয়েছে, এক বছর আগে ইন্দোরে দু’জনের আলাপ৷ সেখান থেকে ঘনিষ্ঠতা তারপর শুরু হয় প্রেম৷ ১৫দিন আগে জুনেইদ জয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়৷ সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে সে৷ দু’জনে সন্তান দত্তক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷