গান্ধীনগর: গোধরা কাণ্ডে অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ইয়াকুব পাটালিয়াকে যাবজ্জীবন সাজা শোনাল আদালত৷ বুধবার আমেদাবাদের সিট আদালত এই রায় শোনায়৷ ১৫ বছর গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে তাকে গ্রেফতার করে গুজরাত পুলিশ৷ এরপর তাকে সিটের হাতে তুলে দেওয়া হয়৷ শুরু হয় বিচার প্রক্রিয়া৷

ইয়াকুবের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়৷ তার ভাই কাদিরকেও গোধরা কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়৷ যদি বিচার চলাকালীন তার মৃত্যু হয়৷ ইায়কুবের আরও এক ভাই আয়ুব ভদোদরা সেন্ট্রাল জেলে যাবজ্জীবনের সাজা কাটাচ্ছে

২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি৷ উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা থেকে সবরমতী এক্সপ্রেসে করে হিন্দু করসেবকরা গুজরাতে ফিরছিল৷ সেই ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়৷ মর্মান্তিক এই ঘটনায় মৃত্যু হয় ৬০ জন হিন্দু করসেবকের৷ যার প্রতিক্রিয়ায় গুজরাতে শুরু হয় জাতি সংঘর্ষ৷

২০১১ সালের ১ মার্চ এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গঠিত সিট ৩১ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে৷ সিটের আইনজীবী আদালতকে জানান, এটা কোনও দুর্ঘটনা ছিল না৷ ষড়যন্ত্র করে ট্রেনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল৷ সওয়াল জবাবের পর আদালত ১১ জনের ফাঁসির আদেশ দেয় আর বাকি ২০ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড৷ তবে প্রমাণাভাবে ৬৩ জন ছাড়া পেয়ে যায়৷

যারা ছাড়া পায় তাদের মধ্যে ছিল মৌলানা উমরজী যিনি গোধরা মামলার প্রধান অভিযুক্ত৷ তৎকালীন গোধরা পুরসভার সভাপতি মহম্মদ হুসেন কালোটা, মহম্মদ আনসারি প্রমুখ৷ পরবর্তীকালে সাজাপ্রাপ্তদের অনেকে এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গুজরাত হাইকোর্টে আবেদন করে৷ তাতে যে ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনানো হয়েছিল তাদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাবাস করা হয়৷