শিরোনামটা পড়ে চমকে উঠলেন তো? ভাবছেন মুসলিম আরাধনায় কী করে স্থান পান মা সরস্বতী? তবে এটাই ব্যতিক্রম। সাম্প্রদায়িক অশান্তির সময়ে এমন কাহিনীই বুকভরা ঠান্ডা বাতাসের অনুভূতি এনে দেয়। প্রতি বছরই বসন্ত পঞ্চমী তিথিতে নিউ দিল্লির সুফী সাধু হজরত খাজা নিজামুদ্দিন আউলিয়ার দরগায় ধুমধাম করে মাতৃ আসনে বসেন বাগদেবী। চলুন সেই ইতিকথা ঝালিয়ে নেওয়া যাক।

গল্পটি সেই হজরত নিজামুদ্দিন আউলিয়ার সময়ের অর্থাৎ ১২৩৮-১৩২৫ খ্রিস্টাব্দের। তার নামেই নামাঙ্কিত সেই দরগা। ভারতের বিখ্যাত সুফী সাধকদের মধ্যে অন্যতম হলেন নিজামুদ্দিন আউলিয়া। এই আরাধনার শুরু খাজা মঈনুদ্দিন চিস্তির হাত ধরে যার দরগা দেখা যায় আজমেরে। তার পরবর্তী সময়ে সিংহাসনে বসেন খাজা কুতুবুদ্দিন বখতিয়ার কাকী। এরপর তার জায়গায় আসেন যথাক্রমে বাবা ফরিদ এবং হজরত নিজামুদ্দিন।

নিজামউদিদন বিশ্বাস করতেন ইশ্ক (প্রেম), আল (বুদ্ধিমত্তা) এবং ইলম (জ্ঞান)-এ। যদিও মধ্যযুগের বেশ কিছু জগৎ বিখ্যাত সম্রাট এবং মহান ব্যক্তিদের পাশেই শায়িত তার কবর, তবুও তার দরগাতেই বেশিসংখ্যক পুণ্যার্থী ভিড় জমান। নিজামুদ্দিনের নিজস্ব সন্তান ছিলোনা কিন্তু তার বোনের সন্তান খাজা তাকীউদ্দীন নূহের স্নেহে অন্ধ ছিলেন তিনি। কিন্তু জ্বরায় কাবু হয়ে তার মৃত্যু ঘটে যা বিশেষভাবে ব্যথিত করেছিল নিজামুদ্দিনকে। তার শিষ্য হজরত আমির খসরু তাকে আবার প্রাণবন্ত দেখতে চেয়েছিলো। একদিন খুসরু দেখেন গ্রামের কিছু মহিলা হলুদ বেশে হলুদ সর্ষে ফুল হাতে গান গাইতে গাইতে খাজার চিল্লা খানকার রাস্তা ধরে এগোচ্ছে। তার কৌতূহল হওয়ায় তিনি গিয়ে জিজ্ঞেস করেন তারা কোথায় যাচ্ছ এবং তাদের এমন বেশ কেন. তারা উত্তর দেয় তারা মন্দিরে ভগবানের পুজোর উদ্দেশ্যে যাচ্ছে। খুসরু আবার উৎসুকভাবে জিজ্ঞেস করেন যে এতে কি তাদের ভগবান খুশি হবেন? তাদের হ্যাঁ বাচক উত্তর শুনে সেই মুহূর্তেই তিনিও তাদের মতো পোশাকে সেজে খাজার সামনে দাঁড়িয়ে গান গাইতে শুরু করেন। শিষ্যের এ হেন রূপ দেখে খুশি হন খাজা। তাই সেদিন থেকেই এই উৎসব তাদের কাছে খুশির উৎসব।

এই দিনে তারা শোভাযাত্রা সহকারে নিজামুদ্দিনের বোনপোর সমাধিস্থলে উপস্থিত হয়। সেখান থেকে তারা এগোয় দরগার উদ্দেশ্যে। মাথায় হলুদ কাপড় ধরে রেখে তারা প্রবেশ করে ভেতরে। সকলের সম্মিলিত কাওয়ালিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে দরগার পরিবেশ।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।