- Advertisement -

তৃতীয়বারের জন্য গোয়ার মুখ্যমন্ত্রিত্বে ডাক পেয়েছেন মনোহর পারিক্কর৷ সুপ্রিম কোর্ট তাঁর অভিষেকে বাধা দিতে রাজি হয়নি৷ বিচারপতিরা আগামীকাল ১৬ মার্চ তাঁকে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে বলেছেন৷ সুপ্রিম কোর্টে অগ্রাহ্য হয়েছে গোয়ার রাজ্যপালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশের আপিল৷ এই প্রসঙ্গে কী বলছে কংগ্রেস? তাদের অভিযোগ, বিজেপি জনতার রায়কে অগ্রাহ্য করছে৷ সে কারণেই তারা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে৷ যদিও এসবের মধ্যে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব নিয়েই কংগ্রেসের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছে৷ এখন তাহলে এই সর্বভারতীয় দলের অবস্থানটা কী? তা জানার জন্যই ‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’র পক্ষ থেকে কংগ্রেস হাইকমান্ডের মুখপাত্র অভিষেক মনু সিংভি-র সাক্ষাৎকার নেন রোহিত ই ডেভিড৷ ১৫ মার্চ, ২০১৭ তারিখে প্রকাশিত সেই সাক্ষাৎকারের বাংলা অনুবাদ কলকাতা 24×7-এ দেওয়া হল৷

প্রশ্ন: আপনার দল কড়া অভিযোগ এনেছিল৷ কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বাধা দিতে অস্বীকার করেছে৷ দেশের শীর্ষ আদালতের এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

- Advertisement -

অভিষেক মনু সিংভি: সুপ্রিম কোর্টে পেশের জন্য আবেদনটি প্রস্তুত হয়েছিল একটি ছুটির দিনে৷ ১৩ মার্চ৷ ১৪ মার্চেও ছুটি ছিল৷ তবু সেদিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা অন্তত দুই ঘণ্টা তা শুনেছেন৷ এর মধ্যে রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ ঘটেছে৷ বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য বৃহস্পতিবার নির্ধারিত হয়েছে৷ তবু সুপ্রিম কোর্টে আমাদের আবেদন অনেকটাই গ্রাহ্য হয়েছে৷ অন্য পক্ষের তরফ থেকে আরও বেশি সময় চাওয়া হয়েছিল৷ পনেরো দিন না হলেও অন্তত এক সপ্তাহ, নিদেনপক্ষে পরশু শুক্রবার৷ শপথ গ্রহণের দিনটি যদি ধরা হয়, তাহলে বিজেপি-র সন্তুষ্টির জন্য মনোহর পারিক্কর দুদিন মুখ্যমন্ত্রী থাকছেন৷ ১৬ মার্চ পাল্লাটা যদি আমাদের দিকে হেলে, সেটা ধরেই বলছি৷ আর যদি তা না হয়, তাহলে ওনাকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মেনে নিতে হবে৷ যদিও ন্যায়ের দিক থেকে সেটা কখনই বরদাস্ত করা চলে না৷ শীর্ষ আদালত যদি উভয়কেই ফ্লোর টেস্টের সমান সুযোগ দিত, তাহলে আমি আরও খুশি হতাম৷ কারও তাহলে আগে থেকে মুখ্যমন্ত্রিত্বের সুযোগ থাকত না৷

প্রশ্ন: কিন্তু কংগ্রেস তো সরকার গড়ার দাবিই জানায়নি৷ এর জন্য কি তাদের দায়ী করা চলে না?

অভিষেক মনু সিংভি: বাস্তবিক কথাটা সত্য নয়৷ গত ১২ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার সময় গোয়ার কংগ্রেস পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচন করা হয়৷ ১১ মার্চ বিধানসভার ভোটের ফল বেরিয়েছে৷ তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নেতা নির্বাচন হয়েছিল৷ আমরা নাম পাঠানোর আগেই, রাজ্যপাল সাক্ষাৎকারে রাজি হয়ে যান এবং ১২ মার্চ রাত্রে পারিক্করের অনুকূলে একটি প্রেস বিবৃতি দেন৷ তা সত্ত্বেও ১২ তারিখ রাতেই আমরা রাজ্যপালকে লিখিতভাবে জানাই যে, বিজেপি-র দেওয়া তালিকায় গলদ রয়েছে এবং আমরাই সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবিদার৷ এই যুক্তিতেই আমরা ১৪ কিংবা ১৫ মার্চের ফ্লোর টেস্টের আবেদন জানাই৷ শীর্ষ আদালত তা ১৬ মার্চ নির্ধারিত করেছে৷ সুতরাং, এর পরেই দুধ কা দুধ পানি কা পানি বরাবর হয়ে যাবে৷

প্রশ্ন: কিন্তু মহামান্য সুপ্রিম কোর্টই প্রশ্ন তুলেছে, আপনারা আগে কেন রাজ্যপালের কাছে গেলেন না?

অভিষেক মনু সিংভি: আমরা রাজ্যপালের কাছে যাব কী করে? আগে তো আমাদের পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন করতে হবে৷ তার পর তো রাজ্যপালের কাছে যাওয়ার প্রশ্ন! ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন করেছি এবং আমরা যাওয়ার আগেই পারিক্করের নাম ঘোষণা হয়ে গিয়েছে৷ রাজ্যপাল যেভাবে ঝটিতি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাকে মোটেই শুভ লক্ষণ বলা চলে না৷ রাজ্যপাল আমাদের ডেকে পাঠানোর প্রয়োজনই বোধ করলেন না৷ সাংবিধানিকভাবে আমরা সেই সুযোগই পেয়েছি যেখানে বলা হয়েছে, তেমন পরিস্থিতি দেখা দিলে রাজ্যপাল সব থেকে বেশি আসনপ্রাপ্ত দল এবং দ্বিতীয় স্থানাধিকারী দলের সঙ্গে কথা বলবেন অথবা যথাক্রমে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে বলবেন৷ যেখানে সব থেকে বেশি আসন-পাওয়া দলকে ডাকাই হল না, সেখানে সন্তুষ্টির কোনও প্রশ্নই আসে না৷

প্রশ্ন: পাঞ্জাব-কর্ণাটকের মতো রাজ্যকে ছেড়ে দিলে তুলনামূলকভাবে ছোট রাজ্যগুলিতেই কংগ্রেসের লড়ার শক্তি সীমাবদ্ধ হয়ে গিয়েছে৷ এতে কি রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠছে না?

অভিষেক মনু সিংভি: সে রকম যুক্তি দেখালে তো বিজেপিতে লালকৃষ্ণ আদবানি কিংবা নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে৷ কারণ, এমন একাধিক রাজ্যই আছে যেখানে তারা কমপক্ষে দশ বছর ধরে ক্ষমতাতেই নেই এবং সেইসঙ্গে অন্তত ১৫টি রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে৷ হ্যাঁ মানছি যে, আপাতত বিজেপি-র উত্থান পর্ব চলছে৷ কিন্তু চির দিন কাহারও সমান নাহি যায়৷

প্রশ্ন: আচ্ছা, এটা কি আপনার একবারের জন্যও মনে হচ্ছে না যে, গোয়ায় বিধানসভার নেতা নির্বাচনে কংগ্রেস সময় নিয়েছে বলেই আজ এই বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে?

অভিষেক মনু সিংভি: মোটেই না৷ আবারও বলছি, আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন করেছি৷ ভারতের সংবিধান অনুসারে, সরকার গড়ার জন্য বৃহত্তম দলকে ডাকার আগে রাজ্যপালের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করার কথা৷ সেখানে আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দলনেতা নির্বাচন করেছি৷ তাহলে আমরা দেরি করলাম কোথায়? ১১ মার্চ ফল বের হল৷ ১২ মার্চ আমরা নেতা ঠিক করলাম৷ আর সেই ফাঁকে রাজ্যপাল বিজেপি-কে ডেকে নিলেন?

প্রশ্ন: ২০১৯-এর নির্বাচনের লক্ষ্যে কীভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা কংগ্রেস ভাবছে?

অভিষেক মনু সিংভি: কয়েক সপ্তাহ কিংবা কয়েক মাসের মধ্যে রাজনীতিতে অনেক ওলট-পালট ঘটে যায়৷ সেখানে আমরা আড়াই বছর সময় পাচ্ছি৷ স্বীকার করছি যে, এটা স্রেফ আত্মবিশ্লেষণের সময় নয়৷ আমাদেরও একেবারে সার্জিক্যাল ঢংয়ে সাংগঠনিক খোলনলচে পালটানোর সময় এসে গিয়েছে৷ আমার কোনও সন্দেহ নেই যে, কংগ্রেস তা করবে৷ আর এ কাজ করতে নেমে কোনও ভয় অথবা দ্বিধার বালাই যে দল রাখবে না, কিংবা কাউকে তুষ্ট করার কথাও যে দল ভাববে না, তাও আমি জানি৷

প্রশ্ন: এ বছরই আবার কংগ্রেসে ফের নেতা নির্বাচন পর্ব৷ আপনার কি মনে হয় না যে, নেহরু-গান্ধী পরিবারের বাইরের কেউই দলকে আবার চাঙ্গা করে তুলত পারতেন?

অভিষেক মনু সিংভি: না, আমি তা মনে করি না৷ তবে আমাদের দলের অভ্যন্তরে নির্বাচনই শেষ কথা, আর সেখানে সোনিয়া গান্ধীও পরীক্ষিত হবেন৷

প্রশ্ন: তাহলে কি আপনার মতে, সর্বভারতীয় স্তরে কংগ্রেসে আদৌ নেতৃত্বের সংকট দেখা দেয়নি?

অভিষেক মনু সিংভি: কোনও ভাবেই নয়৷ কয়েকটা বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে আমাদের দলীয় সংকট দেখা দেবে, এটা ভাবাই হাস্যকর৷ তবে নিঃসন্দেহে সাংগঠনিক সংশোধন কর্মসূচি জরুরি৷