স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সকাল সাড়ে আটটা৷ ধর্মতলায় ঠায় দাঁড়িয়ে অরূপ মহান্তি৷ গন্তব্য বেসরকারি বাসে উঠে বেহালা৷ কিন্তু বাসের দেখা নেই৷ অগত্যা ভরসা ট্যাক্সি৷

ঘড়ির কাঁটা তখন সকাল ৯টা অতিক্রম করেছে৷ শ্যামবাজার থেকে চাকরির জন্য বিধাননগরের সেক্টর ফাইভে যাবেন পৌলমী সরকার৷ একই সমস্যা৷ বেশ কিছুক্ষণ কেটে গেলেও পথে নির্দিষ্ট বাস মিলছে না৷ অবশেষে এল সরকারি বাস৷ কিন্তু তাতে ভিড়ে ঠাসাঠাসি অবস্থা৷ তাতেই অবশ্য কোনক্রমে উঠে প্রাণ হাতে গন্তব্যে পৌঁছনোর চেষ্টা৷

দুটি আলাদা ঘটনা৷ কিন্তু এটাই সোমবার সকালে মহানগরীর সর্বত্র চেনা ছবি হয়ে ধরা দিল৷ ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে জয়েন্ট কাউন্সিল ওফ বাস সিন্ডিকেটের ডাকে ‘গো স্লো’ আন্দোলন৷ সরকারি বাসের দেখা মিললেও তা পর্যাপ্ত নয়৷ তার জেরেই নাকাল যাত্রীরা৷ অফিস হোক বা অন্য কোনও গন্তব্য৷ পৌঁছতে মাথার ঘাম পায়ে পড়ার জোগাড়৷

ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে জয়েন্ট কাউন্সিল অব বাস সিন্ডিকেট আজ, সোমবার থেকে আগামী বুধবার টানা তিনদিন শুধু অফিস টাইমে বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা ও বিকেল ৩টে থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বাস চালানো হবে। ওই সময়ের বাইরে কোনও বাস স্ট্যান্ড থেকে ছাড়বে না।

 

তবে যাত্রীদের একটাই ভরসা। মাঝপথে নির্ধারিত সময়সীমা পেড়িয়ে গেলেও বাস তখনই থামিয়ে দেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে বাসগুলি স্ট্যান্ড থেকে ছাড়বে, সেগুলি গন্তব্য পর্যন্ত যাবে বলে জানিয়েছেন ওই বাস সংগঠনের প্রতিনিধিরা৷

তবে বেঙ্গল বাস সিন্ডিকেট, মিনিবাস অপারেটর্স কো-অর্ডিনেশন কমিটি ও হাওড়ার বাস মিনিবাস অপারেটর্স সমন্বয় কমিটি এই আন্দোলনে সামিল হয়নি। রাজ্য সরকার অবশ্য জয়েন্ট কাউন্সিলের এই আন্দোলনকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। সারা দিন পথে পর্যাপ্ত সরকারি বাস রাখার ব্যবস্থা করেছে রাজ্য পরিবহণ নিগম। তাতে সমস্যার লাঘব হবে কী?

জয়িতা দে রায় নামে এক অফিস যাত্রীর বক্তব্য, ‘‘সবার অফিস তো সন্ধ্যা সাতটা আটটা’র মধ্যে ছুটি হয়ে যায় না৷ অনেকেই ৯টা-১০টা’তেও বাড়ি ফেরেন৷ ওই সময়ই বেশি দুর্ভোগ হবে। কারণ রাতে সরকারি বাসও কমে যায়।’’

গত জুন মাসে সরকারি বেসরকারি বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। তা ফের বাড়ানোর জন্য সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে তিনদিনের এই কর্মসূচি নিয়েছে জয়েন্ট কাউন্সিল। সংগঠনের দাবি, জুন মাসে ভাড়াবৃদ্ধির পর ডিজেলের দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে বাস চালিয়ে লোকসান হচ্ছে। এরপর পয়লা নভেম্বর ধর্মতলায় প্রতিবাদ মিছিল করে পরবর্তী কর্মসূচি নেবে সংগঠন।

উৎসবের রেশ কাটিয়ে সোমবার থেকেই পুরদস্তুর কাজ শুরু হয়েছে সব অফিসে৷ প্রথম দিনেই বাস দুর্ভোগ৷ পরের দু’দিন কপালে কী আছে তা ভেবেই এখন আশঙ্কায় যাত্রীরা৷

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ