কাঠমান্ডু: করোনাতঙ্কে ভীত গোটা বিশ্ব। থামছে না মৃত্যুর রেশ। তবুও প্রতিনিয়ত বেঁচে থাকার লড়াইয়ে করোনা যুদ্ধে সামিল হচ্ছেন লক্ষ লক্ষ মানুষেরা। ঠিক তেমনই মারণ এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে অভিনব পদ্ধতিতে লড়াইতে নেমেছে হিমালয়ের কোলে অবস্থিত ছোট্টো একটি দেশ নেপাল। অপূর্ব এই সুন্দর দেশেও ছোবল বসিয়েছে করোনা। ইতিমধ্যে এদেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৫। ফলে মারণ এই ব্যাধির সংক্রমণে রাশ টানতে পথ নেমেছেন অসংখ্য নেপালিরা। যারা প্রত্যেকেই নেপালের লামজঙ জেলার বাসিন্দা।

নেপালের একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গিয়েছে, নেপালের লামজঙ জেলায় মার্সিয়ানগিড়ি গ্রামে একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। আর এই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটিকে নিয়েই ঘটনার সূএপাত। জানা গিয়েছে, ওই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে প্রচুর চিনাকর্মীরা কাজ করেন। এছাড়াও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ট্রাকে করেই চিনাকর্মীরাই গ্রামের মধ্যদিয়ে ওই কেন্দ্রে নিয়ে যান। আর তাতেই ঘোর আপত্তি জানিয়েছেন লামজঙ জেলার বাসিন্দারা।

ওই গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে প্রচুর চিনাকর্মীরা কাজ করেন। যারা সম্প্রতি কয়েক মাস আগেই চিন থেকে ঘুরে এসেছেন। আর তারপরই চিনেই প্রথম ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। যার জেরে প্রতিদিন গোটা বিশ্বে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু মিছিল অব্যাহত। এই অবস্থায় নিজেদের সুরক্ষার কথা ভেবে ওই সমস্ত চিনাকর্মীদের গ্রামে ঢোকা রোধ করতে চাইছেন বাসিন্দারা। যা নিয়ে একপ্রস্ত ঝগড়াও হয়ে যায় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মীদের সঙ্গে। গ্রামবাসীদের একটাই দাবি, গো ব্যাক চায়না…।

এই অবস্থায় গ্রামবাসীদের বুঝিয়ে সুজিয়ে একটি সালিশি সভা ডেকেছেন স্থানীয় পুলিশ প্রধান। সমস্যার সমাধানে দুপক্ষের বক্তব্য শোনার পরই যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, করোনা রুখতে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো আপাতত নিজেরদের আন্তর্জাতিক সীমান্ত সিল করে দিয়েছে নেপাল প্রশাসন। মারণ ভাইরাস করোনা যাতে হিমালয়ের এই ছোট্টো দেশটিতে মহামারীর রুপ ধারন করতে না পারে তার জন্য সদা সচেষ্ট নেপাল।